কুকুরের খাওয়া বিস্কুট খেয়ে জলাতঙ্কে শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত মা-ও
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রতিবেশীর পোষা কুকুরের খাওয়া ফেলে দেওয়া বিস্কুট কুড়িয়ে খাওয়ার পর জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় শিশুটির মাও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের দাবি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যায় ভৈরব পৌর শহরের কালিপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মিজান মিয়ার ছেলে রবিউল মিয়া (৪)।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ২৮ জুন বাড়ির সামনে খেলছিল রবিউল। এ সময় প্রতিবেশী মুসা মিয়ার স্ত্রী তাদের পোষা কুকুরকে বিস্কুট খেতে দেন। কুকুরটি অর্ধেক বিস্কুট খেয়ে বাকি অংশ ফেলে রাখে। পরে সেই বিস্কুট কুড়িয়ে খায় রবিউল। এরপর থেকেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
পরিবার জানায়, প্রথমে শিশুটিকে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও সেখানে জলাতঙ্কের টিকা না থাকায় তাকে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। কিন্তু বুধবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় রেফার করেন। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে রবিউলের মা রুনা বেগমও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়েছেন বলে পরিবারের দাবি। তিনি বর্তমানে ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শিশুটির বাবা মিজান মিয়া অভিযোগ করেন, প্রতিবেশীরা নিয়মিত বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় তাদের পোষা কুকুরকে খাবার দিতেন। একাধিকবার নিষেধ করার পরও তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে তিনি দোষীদের বিচারের দাবি জানান।
ভৈরব থানার পরিদর্শক লিমন বোস বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত দিন