কুষ্টিয়ায় অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর শিশুর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক পুলিশ হেফাজতে
কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে শহরের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া শিশুর নাম তাসনিয়া আফরিন। সে কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে।
পরিবার জানায়, কয়েক দিন আগে বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে তাসনিয়ার হাত ভেঙে যায়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নতি না হওয়ায় সোমবার বিকেলে তাকে শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলে পরিবার রাজি হয়।
সন্ধ্যার পর শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। খবর পেয়ে বাইরে থাকা পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েন।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করেন। এ ঘটনায় দুই চিকিৎসককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট অ্যানেসথেসিস্ট বলেন, শিশুটির প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষা স্বাভাবিক ছিল। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর হঠাৎ তার মৃত্যু হয়, যা হৃদ্রোগজনিত কারণেও হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে ত্রুটি বা নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহারের মতো বিভিন্ন কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা তদন্ত করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে