সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সশস্ত্র বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সদর দপ্তরে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।
ড. ইউনূস বলেন, এই গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল একটি নিয়মিত নির্বাচন নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মালিকানা ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। এই নির্বাচনে ভোট দেওয়া সেই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত প্রকাশ।
তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামো সম্পর্কে মতামত দেবে এবং সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। এ কারণেই এবারের নির্বাচন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার আশা করে, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী আগের মতোই পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে।
বৈঠকের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং দেশব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনী যে ভূমিকা রেখেছে, তা জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক তরুণ ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। একই সঙ্গে এমন অনেক প্রবীণ নাগরিক আছেন, যারা দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি। এই বাস্তবতায় ভয়মুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে এই দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি। তাই প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে হবে, যাতে কোনো নাগরিক ভয় বা প্রভাব ছাড়াই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
তিনি সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ের সব সিদ্ধান্ত যেন আইনের সীমার মধ্যে, সংযত ও দায়িত্বশীলভাবে নেওয়া হয়। এমনকি সামান্য বিচ্যুতিও যেন জনআস্থাকে ক্ষুণ্ন না করে।
বৈঠকে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে