Views Bangladesh Logo

বঙ্গবন্ধু ও হাসিনার বই থাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি আটক করল ছাত্রদল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিগত সরকার-সংশ্লিষ্ট বই থাকায় রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির গাড়ি আটক করেছে ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাড়িটি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম গ্রন্থাগারের ইনচার্জকে এসব বই সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির একটি গাড়ি ছিল রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে। এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গাড়িতে ওই বইগুলো দেখে আপত্তি জানান। পরে মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক (লিমন) গাড়িটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে ডিসিকে বইগুলো দেখান। এ সময় সাংবাদিকেরা ডিসি কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি সম্মত হননি।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছেন, দিনের মধ্যে তিনি বইগুলো লাইব্রেরি থেকে সরিয়ে ফেলবেন। অঙ্গীকারনামায় দুঃখও প্রকাশ করেছেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন বইয়ের পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কিছু বই বের হয়েছে, যেটা আসলেই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি অঙ্গীকারনামা দিয়েছি, এই বই বা বিগত সরকারের গুণগান গাওয়া বই আর এই গাড়িতে বহন করব না এবং কোনো স্পটে নিয়ে যাব না। আমরা আজকেই এ বইগুলো সরিয়ে ফেলব।’

ডিসির কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক লিমন বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে ঢুকতেই আমরা দেখি বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের নেত্রী শেখ হাসিনার নিজের লেখা বই, ওবায়দুল কাদেরের নিজের লেখা বই। এখানে শেখ মুজিবের বই। এসব বই তিন শরও অধিক। ফ্যাসিবাদের পতন হলেও এই বই পড়ানো হচ্ছিল।’ এসব বই নিষিদ্ধ কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রামে সরকার থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যে এ বইগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা সেটা করেননি। যারা দায়িত্বে ছিলেন আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারে বইগুলো আগে থেকেই ছিল। এক বছর আমাদের প্রকল্পটা বন্ধ ছিল। ৫ আগস্টের পর বইগুলো আমরা আউট করেছিলাম। কিন্তু বইগুলো রাখার জন্য আমাদের কোনো জায়গা নেই। তাই গাড়িতেই একটু আড়াল করে রাখা ছিল, যাতে পাঠকেরা না দেখে। তারপরও কিছু পাঠক খুঁজে খুঁজে বের করে এলোমেলো করে রেখেছিল। ছাত্রদল আমাদের ভুলটা ধরিয়ে দিয়েছে।’

গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রান্তিক পর্যায়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে দেশব্যাপী কাজ করছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ