অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে নিষিদ্ধ মাদক বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার কেমিস্ট
অনলাইন কেনাকাটার প্ল্যাটফর্মে ‘সিবিডি অয়েল’ ও সুগন্ধি তেলের নামে নিষিদ্ধ মাদক টিএইচসি বিক্রির অভিযোগে আনিসুর রহমান নামে এক কেমিস্টকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সংস্থাটির দাবি, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মাদক বিক্রির ঘটনায় সংশোধিত আইনে এটি দেশের প্রথম মামলা।
ডিএনসি সূত্র জানায়, রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আনিসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বাসা থেকে ৬২০ মিলিলিটার টিএইচসি উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এ ছাড়া মাদক প্রস্তুত ও বোতলজাত করার বিভিন্ন সরঞ্জাম, ৫০টি কাচের বোতল, দারাজের লোগোযুক্ত প্যাকেট, কম্পিউটার ও মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দারাজে ‘সিবিডি অয়েল’ নামে একটি পণ্য বিক্রির তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে কর্মকর্তারা ক্রেতা সেজে পণ্যটির অর্ডার দেন। পরে সরবরাহকারী কর্মীর মাধ্যমে পাওয়া তরল পদার্থের নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষায় পাঠানো হলে তাতে উচ্চমাত্রার টিএইচসি শনাক্ত হয়। ওয়েবসাইটে পণ্যটি অন্য নামে উপস্থাপন করা হলেও পরীক্ষায় সেটিতে গাঁজার প্রধান মনঃপ্রভাবকারী উপাদান টিএইচসি থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৬ আগস্ট তিনটি কাচের বোতলে মোট ৬০ মিলিলিটার তরল পদার্থের অর্ডার দেওয়া হয়। পরে ডেলিভারি কর্মী মো. নাঈম সেগুনবাগিচার তোপখানা রোড এলাকার একটি নির্ধারিত স্থানে পার্সেলটি নিয়ে আসেন। তল্লাশিতে তাঁর কাছে থাকা পার্সেল থেকে তিনটি কাচের বোতল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম জানান, তিনি বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে পার্সেলটি সংগ্রহ করেছিলেন এবং ভেতরে মাদক রয়েছে বলে জানতেন না। মাদক কারবারে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর বাড্ডা থানায় মামলা করেছে ডিএনসি। মামলায় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ডিএনসি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সংশোধিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ডিজিটাল বা সাইবার স্পেস ব্যবহার করে মাদক কেনাবেচার বিষয়টি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম এ ধরনের মামলা করা হলো।
তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেপ্তার আনিসুর রহমান পেশায় কেমিস্ট। দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তিনি ‘সিবিডি অয়েল’ ও ‘অ্যারোমেটিক অয়েল’ নামে টিএইচসি বিক্রি করে আসছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। দারাজের মাধ্যমে পাঁচ বছরে প্রায় ৪০৫ বোতল টিএইচসি বিক্রির তথ্যও তদন্তে পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ডিএনসি বলছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাদক কেনাবেচা ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।
মতামত দিন