ছাত্রদল নেতা জনি হত্যা: সাবের হোসেনসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনে অভিযোগ
প্রায় দশ বছর আগে ঢাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনির মৃত্যুর ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, ডিএমপির সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়াসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
রোববার (২৯ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জনির বাবা ইয়াকুব আলী নিজে উপস্থিত হয়ে এই অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি সকালে ছাত্রদল নেতা জনি ও তার সহপাঠী মইন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জনির ছোট ভাই মনিরুজ্জামান হীরাকে দেখতে যান। ফেরার পথে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কিছু লোক তাদের তুলে নিয়ে যায়। পরে ডিবির ডিএমপির দক্ষিণ কার্যালয়ে নিয়ে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরদিন ২০ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৩টার দিকে খিলগাঁওয়ের জোড়াপুকুর মাঠ এলাকায় গুলির শব্দ ও একজন ব্যক্তির চিৎকারে স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে ভোর রাতে মামলার বাদীসহ সাক্ষী ও প্রতিবেশীরা জোড়াপুকুর মাঠের দিকে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পান। এ সময় আসামিরা বলেন, নুরুজ্জামান জনি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।
তবে মামলার বাদী ও সাক্ষীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে যান এবং সেখানে গিয়ে দেখতে পান নুরুজ্জামানের বুকের বামে, ডান দিকে, দুই হাতের তালুতে ১৬টি গুলির চিহ্ন।
এ ঘটনার ৯ বছর পর ২০২৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর খিলগাঁও থানায় জনির বাবা একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবের হোসেন চৌধুরীসহ মোট ৬২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে