যদি টালবাহানা করতেই থাকেন, তাহলে চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব: ইনকিলাব মঞ্চ নেতা
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সংগঠনটির চট্টগ্রাম নগর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলটি নগরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে কাজীর দেউড়ি এলাকায় গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়। বেলা আড়াইটার দিকে কাজীর দেউড়ি মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারীরা ‘তুমি কে, আমি কে—হাদি, হাদি’সহ নানা স্লোগান দেন। এ সময় তাঁদের হাতে ‘জাস্টিস ফর হাদি’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
সমাবেশের শুরুতে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সাবেক নেতা ইবনে হোসেন জিয়াদ। তিনি বলেন, হাদি হত্যার বিচার নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার টালবাহানা শুরু করেছে। বিচার না হলে প্রয়োজনে আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন করা হবে।
হাদি হত্যা মামলায় তড়িঘড়ি করে ভুল অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জুলাই ঐক্য চট্টগ্রামের প্রধান সমন্বয়কারী আবরার হাসান রিয়াদ। তিনি বলেন, অভিযোগপত্রে ভুল তথ্য রয়েছে। মূল আসামিদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সঠিক অভিযোগপত্র দিয়ে মূল আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে, না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাফসান রাকিব বলেন, হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে সঠিক তথ্য উঠে আসেনি। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখছে।
তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিম কি আমাদের সঙ্গে টালবাহানা করছে? এই চট্টগ্রাম থেকে ঘোষণা দিচ্ছি, যদি আপনারা টালবাহানা করতেই থাকেন, তাহলে চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেব।’
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর ওসমান হাদি মারা গেলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। এরপর মামলার বাদী আদালতে অভিযোগপত্রের বিষয়ে নারাজি দাখিল করেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে