Views Bangladesh Logo

সাতকানিয়ায় প্রধান শিক্ষক মিল্টন দাশকে হেনস্তার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বাজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিল্টন বিকাশ দাশকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে হেনস্তা এবং তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা তসলিম উদ্দিন ও তাঁর ভাই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন অভিযুক্তরা।

প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে অটোরিকশায় করে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ফকিরপাড়ার প্রবেশমুখে তসলিম উদ্দিন, মহিউদ্দিনসহ কয়েকজন তাঁর গাড়ির গতিরোধ করেন। পরে তাঁকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। এডহক কমিটি গঠনের একটি ফাইল তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ওই সময় তাঁকে চাপ ও হেনস্তা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

মিল্টন বিকাশ দাশ বলেন, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ও কর্মচারী এগিয়ে এলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। পরে তারা তাঁর সঙ্গে বিদ্যালয়ের অফিসে যান। বিষয়টি জানতে পেরে কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে সেখানে উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে একপর্যায়ে তিনি ফাইলটি তাদের হাতে দিতে বাধ্য হন বলে জানান প্রধান শিক্ষক।

এডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য স্নাতক পাসের যোগ্যতা প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক বলেন, প্রস্তাবিত তিনজনের মধ্যে একজনের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জমা দেওয়া হয়নি। বিষয়টি বারবার জানানো হলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। বরং নিয়ম না মেনে ফাইলটি উপজেলা পর্যায়ে পাঠানোর জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলেও জানান মিল্টন বিকাশ দাশ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা তসলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আবদুল ওহাবকে সভাপতি করার সুপারিশ করেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষক সেই সুপারিশ মানতে রাজি হননি। বিদ্যালয়টি যোগ্য ও ভালো মানুষের মাধ্যমে পরিচালনা করে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করাই তাদের উদ্দেশ্য বলে দাবি করেন তিনি।

তসলিমের ভাই মহিউদ্দিনও প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তাঁর কাছ থেকে কোনো ফাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি কিংবা খারাপ আচরণও করা হয়নি। পরে পুলিশ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রধান শিক্ষকের বাসা থেকে ফাইলটি নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে পাঠায় বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আরফাদুল ইসলাম, ইমরান হোসেনসহ অনেকে প্রধান শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগের তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সাতকানিয়া থানার এসআই মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশীষ বরণ দেব জানান, এডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই মূলত বিরোধের সূত্রপাত এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, শিক্ষকদের সম্মান করা সবার দায়িত্ব। প্রধান শিক্ষককে হেনস্তার অভিযোগ সত্য হলে তাঁর আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। তবে বর্তমানে সাতকানিয়ায় বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি না থাকায় দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ