বিপিএলে ফাইনালে জয়ের লক্ষ্যে রাতে মাঠে নামবে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
আজ (শুক্রবার) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের ফাইনালে লড়বে চট্টগ্রাম রয়্যালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মিরপুর শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
রাজশাহী থেকে ২০২০ বিপিএলে প্রথম ও একমাত্র শিরোপা জিতেছিল ‘রাজশাহী রয়্যালস’ ফ্র্যাঞ্চাইজি। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই বিপিএল জয়ের স্বাদ পায়নি।
ফাইনালিস্ট দুটি দল চলতি আসরেই তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। লিগপর্বে দু’বারের দেখায় রাজশাহী ও চট্টগ্রাম একটি করে জিতেছে। শীর্ষে থেকে নাজমুল হোসেন শান্ত’র রাজশাহী এবং শেখ মেহেদীর চট্টগ্রাম প্লে-অফে নামে টেবিলের দুইয়ে থেকে। ফলে শীর্ষ দুই দলের আবারও দেখা হয় প্রথম কোয়ালিফায়ারে। সেখানে রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল চট্টগ্রাম। আর শান্তরা ফাইনালে ওঠার দ্বিতীয় সুযোগ (কোয়ালিফায়ার) কাজে লাগিয়ে সিলেট টাইটান্সকে হারিয়ে।
রাজশাহী দলে রয়েছেন জাতীয় দলের তারকা ওপেনার তানজিদ তামিম। তাঁর সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, তানজিম সাকিবরা রয়েছেন। বিদেশিদের মধ্যে শুরুতেই ঝড় তোলার জন্য তাদের হাতে রয়েছেন পাকিস্তান জাতীয় দলের ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান। সেই সঙ্গে কেন উইলিয়ামসন আর জিমি নিশামকে নকআউটে নিয়ে এসে রীতিমতো চাঙ্গা রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। বোলিংয়েও তানজিম সাকিব আর সাথে ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট রিপন মণ্ডল থাকছেন।
তবে এসব নামে ভয় পায় না শেখ মেহেদীর চট্টগ্রাম। এবারের আসরে তিনবারের দেখায় দুবারই রাজশাহীকে হারিয়েছে চট্টগ্রাম। এবং দুই দলের মধ্যকার তিনটি ম্যাচের কোনোটিতেই ১৪০ রানও ওঠেনি। প্রথম ম্যাচে রাজশাহীকে ১২৮ রানে আটকে রেখেছিলেন শরিফুল-মেহেদীরা। ঢাকায় ফিরতি ম্যাচে চট্টগ্রাম নিজেরাই গুটিয়ে গিয়েছিল ১২৫ রানে। আর সর্বশেষ কোয়ালিফায়ারে রাজশাহীকে ১৩৩ রানের মধ্যে আটকে ফাইনালে ওঠে চট্টগ্রাম। যা প্রমাণ করে শরিফুলের সুইং, মেহেদী-তানভীরের স্পিনে কাবু রাজশাহী।
বিদেশিদের নামের ভিড়ে চট্টগ্রামের কেউ না থাকলেও আছেন কোটি টাকায় কেনা ওপেনার নাঈম শেখ। তাঁর সঙ্গে থাকবেন পাকিস্তানি ব্যাটার মির্জা বেগ আর হাসান নাওয়াজ। ব্যাটিংয়ের গভীরতা হয়তো তেমন নেই, কিন্তু মিরপুরে কোনোভাবে দেড়শোর কাছাকাছি রান তুলতে পারলেও চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলাররা তা বাঁচিয়ে দিতে পারেন।
এর আগে বিপিএল শুরুর আগেরদিনই মালিকানা বদল নিয়ে খাদের কিনারে চলে যায় চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজি। পরে বিসিবির অধীনে কোচিং স্টাফ থেকে অনেক কিছুতেই বদল আনা হয়। সেই দল মাঠের পারফরম্যান্সে বড় চমকই দেখিয়েছে। অন্যদিকে, নিলামের পরই রাজশাহীর সম্ভাবনা টের পাচ্ছিলেন ক্রিকেটবোদ্ধারা। অন্যতম ফেভারিট হিসেবে ধরা হচ্ছিল হান্নান-শান্ত’র দলকে। লিগপর্বের শীর্ষ দুইয়ে থেকে প্লে-অফে ওঠার পর রাজশাহী-চট্টগ্রামের রোমাঞ্চকর দ্বৈরথের সাক্ষী হয়েছিল ক্রিকেটভক্তরা। নিঃসন্দেহে বিপিএলের ফাইনালেও অন্যতম দুই শক্তিশালী দলের কাছে তেমন কিছুরই প্রত্যাশা।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে