Views Bangladesh Logo

প্রতিবাদের মুখে চট্টগ্রাম বন্দরের একক ব্যাংক পেমেন্টের নির্দেশনা প্রত্যাহার

ব্যবসায়ী ও কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্টদের আপত্তির মুখে চট্টগ্রাম বন্দরের চার্জ পরিশোধে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসিকে নির্দিষ্ট করে দেওয়া নির্দেশনা প্রত্যাহার করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। নতুন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি বাতিল করে আগের নিয়মে অর্থ পরিশোধের সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবহারকারীদের জন্য ইস্টার্ন ব্যাংকের মাধ্যমে বন্দর চার্জ পরিশোধের ব্যবস্থা চালু করা হয়। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কিছু পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কথাও জানান ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা।

বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, অনেক আমদানি-রপ্তানিকারকের ইস্টার্ন ব্যাংকে হিসাব নেই। ফলে হঠাৎ করে একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ বাধ্যতামূলক করায় তাদের নতুন করে সমস্যায় পড়তে হয়। পণ্য খালাসে বিলম্ব হলে ডেমারেজসহ বাড়তি ব্যয় গুনতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বলেন, আমদানি-রপ্তানিকারকদের বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব রয়েছে। তাই প্রত্যেক ব্যবসায়ীর একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকে হিসাব থাকবে, এমনটি ধরে নিয়ে পেমেন্ট ব্যবস্থা করা বাস্তবসম্মত নয়। তার ভাষ্য, আগে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে জনতা ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের সুযোগ ছিল।

ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের প্রতিবাদের পর বন্দর কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার বিকেলেই নতুন সার্কুলার প্রত্যাহার করে। এর ফলে আগের মতো একাধিক ব্যাংকের মাধ্যমে বন্দর চার্জ পরিশোধের ব্যবস্থা পুনরায় চালু হয়। একই সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দর কার্যক্রমকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে।

কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহাজের শতভাগ বিল অনলাইনে প্রক্রিয়াজাত করার পাশাপাশি কনটেইনার ও কনসাইনি বিল টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মাধ্যমে প্রস্তুত ও সংগ্রহ করা হবে। নতুন ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংকের বুথ স্থাপনের পাশাপাশি এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে ছুটির দিনসহ ২৪ ঘণ্টা অনলাইন পেমেন্টের সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ই-গেট পাস, গেট-ইন ও গেট-আউট, সময়-স্লট ব্যবস্থাপনা, কার্ট টিকিট, ই-গেট চালান এবং জাহাজের ই-এনওসিসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তবে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে বন্দর ব্যবহারকারীদের। চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, টিওএস চালুর পর থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি প্রত্যাশিতভাবে কাজ করছে না। জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে পণ্য সরবরাহে বিলম্ব হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দরকে কাগজবিহীন ও স্মার্ট করার উদ্যোগ কার্যকর করতে হলে প্রযুক্তির পাশাপাশি এমন পেমেন্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা নিজেদের বিদ্যমান ব্যাংকিং চ্যানেল থেকেই সহজে বন্দর চার্জ পরিশোধ করতে পারেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ