Views Bangladesh Logo

ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, প্রক্টরের গাড়ি ও হলের কক্ষ ভাঙচুর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদলের এক নেতার থাপ্পড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ছাত্রদল নেতার অবস্থানরত হলের কক্ষের জানালার কাঁচ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে শিবিরকর্মীদের বিরুদ্ধে।

শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে প্রক্টরের গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েকজনকে ইট, বোতল ও জুতা ছুড়তে দেখা গেছে। তবে কক্ষের জানালার কাঁচ ভাঙচুরের ভিডিওতে ভাঙচুরকারীদের স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

জানা গেছে, জিয়া হল শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড় দেওয়ার পর হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে গিয়ে আশ্রয় নেন শাখা ছাত্রদলের নেতা আলীনূর রহমান। পরে শিবিরের নেতাকর্মীরা তাঁকে খুঁজতে ওই কক্ষের সামনে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, কক্ষের সামনে এইচআরএম বিভাগের মারুফ, অর্থনীতি বিভাগের নাইমুর রহমান, আইন বিভাগের সাকিব, আরবি বিভাগের বাকি-বিল্লাহ ও আল-হাদিস বিভাগের শাকিলসহ কয়েকজন উত্তেজিত অবস্থায় ছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ কাঠ ও টেবিল দিয়ে দরজায় ধাক্কা এবং লাথি মেরে দরজা খোলার চেষ্টা করেন। এ সময় কক্ষের ভেতর থেকে ধারণ করা একটি ভিডিওতে জানালার কাঁচ ভাঙার দৃশ্য দেখা গেলেও ভাঙচুরকারীর চেহারা স্পষ্ট নয়।

ওই কক্ষে থাকা ছাত্রদলকর্মী তাহসিন জিম বলেন, "আলীনূর আমার কক্ষে আসার পর শিবিরের ১০ থেকে ১৫ জন আমাদের কক্ষের দিকে আসে। অতর্কিত হামলার আশঙ্কায় ভয়ে দরজা বন্ধ করে দিই। পরে তারা দরজায় লাথি মারতে থাকে এবং একপর্যায়ে জানালার কাঁচ ভাঙে। ব্যালকনিতে হোসনে মোবারক নামে একজন ইট ছুড়লে সেটি আমার হাতে লেগে ক্ষত হয়।"

এদিকে পুলিশি সহায়তায় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আলীনূরকে কক্ষ থেকে বের করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রক্টরের গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়িটি হলের ফটক পেরিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর ডান দিক থেকে নাইম ইসলাম গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন। একই সময় শাকিল আহমেদকে একটি বোতল ছুড়তে দেখা যায়। পরে নীল টি-শার্ট পরা আরেকজন গাড়ির পেছন দিক থেকে ইট ছুড়লেও সেটি গাড়িতে লাগেনি। তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে নাইম ইসলাম বলেন, "ওখানে হুড়োহুড়ি চলছিল, অনেকেই ইট মারতে পারে। তবে আমি কোনো কাঁচ ভাঙিনি।"

আরেক অভিযুক্ত শাকিল আহমেদ বলেন, "প্রক্টরের গাড়ির কাঁচ ভাঙার সঙ্গে আমি জড়িত নই। গাড়ির আশপাশেও ছিলাম না।"

শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম বলেন, "শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিবকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলাম। ভাঙচুর কে বা কারা করেছে, তা নিয়ে ভাবিনি তখন।"

প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন, "গাড়িতে বড় একটি ইটের আঘাতে কাঁচ ভেঙে যায়। ভেতরে থাকা লোকজন আহত হতে পারতেন, তবে কারও গায়ে ইটটি লাগেনি।"

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, "গেটের একটু সামনে পৌঁছাতেই ছেলেপেলে আলীনূরের দিকে ধেয়ে আসে। দ্রুত তাকে গাড়িতে তুলে নিই। পরে কয়েকটি ঢিল গাড়িতে লাগে এবং কাঁচ ভেঙে যায়। কারা এ ঘটনায় জড়িত ছিল, তা তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে।"

সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, "তদন্ত চলমান রয়েছে। যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার সবকিছুই আমরা নথিভুক্ত করে রাখছি।"

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ