একসঙ্গে অচল চ্যাটজিপিটি, ক্লদ ও গ্রোক; সন্দেহের তির মাইক্রোসফট আজুরের দিকে
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) সেবাগুলো বৃহস্পতিবার প্রায় একই সময়ে বিকল হয়ে পড়ে। ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি, অ্যানথ্রপিকের ক্লদ ও ইলন মাস্কের এক্সএআইয়ের গ্রোক—তিনটি প্ল্যাটফর্মই একযোগে অচল হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারী বিপাকে পড়েন। সেবা-বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্মে দিনভর ১৪ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়ে; সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওপেনএআই নিয়ে অভিযোগ ছাড়ায় ১২ হাজার।
বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যার পর থেকে সমস্যা প্রকট হতে শুরু করে। ভারতসহ সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, তুরস্ক, জর্ডান, গ্রিস, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও সুইজারল্যান্ডের ব্যবহারকারীরাও অভিন্ন সমস্যার কথা জানান—অনুরোধ পাঠানো যাচ্ছিল না, উত্তরও আসছিল না।
কী ঘটেছিল
ওপেনএআই জানায়, চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্সে ত্রুটির হার অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে কথোপকথন, লগইন, ফাইল আপলোড, ভয়েস মোড, সার্চ, ডিপ রিসার্চ ও ইমেজ জেনারেশনে। অ্যানথ্রপিকের স্ট্যাটাস পেজে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৬ মিনিটের দিকে (১৩:২৬ ইউটিসি) ক্লদ মিথোস ৫.১, ফেবল ৫.১ ও ওপাস ৫ মডেলে ত্রুটির কথা জানানো হয়; পরে তালিকায় যুক্ত হয় মিথোস ৫, ফেবল ৫, ওপাস ৪.৮ ও ওপাস ৪.৬। ক্লদ এআই, ক্লদ এপিআই, ক্লদ কোড ও ক্লদ কোওয়ার্ক—সবগুলো সেবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এক্সএআই নিশ্চিত করে, গ্রোকের ওয়েব সংস্করণ এবং অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপ অচল ছিল; এক্স-এ প্রম্পট দিলে ব্যবহারকারীরা মডেল অতিরিক্ত চাপে আছে বলে বার্তা পাচ্ছিলেন।
বিভ্রাটের ধাক্কা লাগে নির্ভরশীল সেবাতেও। এআই কোডিং টুল কার্সর জানায়, ক্লদ ও গ্রোকের বিভ্রাটের কারণে তাদের সেবাও ব্যাহত হয়েছে—যাতে ডেভেলপারদের চলমান কাজ মাঝপথে ভেঙে পড়ে।
সমাধান হলো কীভাবে
বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টার দিকে সেবা ফিরতে শুরু করে। ওপেনএআই জানায়, সমস্যার সমাধান প্রয়োগ করা হয়েছে এবং সেবা স্বাভাবিক হচ্ছে। অ্যানথ্রপিক জানায়, রাত ১০টা ১৬ মিনিটে (১৬:১৬ ইউটিসি) সমস্যার প্রভাব শেষ হয়েছে এবং সব মডেল আবার সচল। গ্রোক সবচেয়ে দেরিতে স্বাভাবিক হয়—ওপেনএআই ও ক্লদের সেবা ফেরার পরও এক্সএআইয়ের স্ট্যাটাস পেজে বিভ্রাটের নোটিশ ঝুলছিল; তবে পরে সেটিও সমাধান হিসেবে চিহ্নিত হয়।
কারণ নিয়ে প্রশ্ন
তিনটি প্রতিষ্ঠানের কেউই এখনো মূল কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। অ্যানথ্রপিকের এক কারিগরি কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিকে ‘অবকাঠামোগত সমস্যা’ বলে উল্লেখ করেন।
সন্দেহ ঘনীভূত হয়েছে মাইক্রোসফট আজুরকে ঘিরে। তিনটি মডেলের জন্যই ক্লাউড সেবা দেয় আজুর, আর একই সময়ে আজুরেও বিভ্রাটের অভিযোগ বেড়ে যায়। অবকাঠামো পর্যবেক্ষণকারী একটি প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ২৬ মিনিটে আজুরের ইস্ট ইউএস অঞ্চলে ইনগ্রেস ব্যর্থতার তথ্য জমা পড়ে।
বিপরীতে গুগলের জেমিনি অক্ষত থাকে—যা চলে গুগল ক্লাউডে। যদিও জেমিনি নিয়েও ব্যবহারকারীদের অভিযোগ বেড়েছিল, গুগল আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিভ্রাটের কথা স্বীকার করেনি।
তবে প্রযুক্তি গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্ল্যাটফর্মগুলো একাধিক সরবরাহকারীর জটিল অবকাঠামোর ওপর চলে; কাজেই একই সময়ে বিকল হওয়া মানেই একক ব্যর্থতার বিন্দু প্রমাণিত হয় না।
মতামত দিন