চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ডাউন, গ্রক ও ক্লডেও হোঁচট
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একসঙ্গে একাধিক জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে সমস্যার অভিযোগ উঠেছে। চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, গ্রক ও ক্লড—জনপ্রিয় এই চারটি এআই প্ল্যাটফর্মেই ব্যবহারকারীরা সাময়িক বিভ্রাটের মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীরা এসব এআই সেবা ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যার কথা জানাতে শুরু করেন। বিশেষ করে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় চ্যাটজিপিটি ও জেমিনি কাজ করছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টর-এর তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে চ্যাটজিপিটি, গ্রক, ক্লড ও জেমিনি ব্যবহার করতে গিয়ে বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ব্যবহারকারীদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে না পারা, অনুরোধ পাঠাতে ব্যর্থ হওয়া এবং সেবা থেকে স্বাভাবিকভাবে সাড়া না পাওয়ার মতো সমস্যা।
শুধু ভারতেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতেও গুগলের জেমিনি নিয়ে সমস্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ইউরোপ ও এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ এসেছে।
গালফ নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, তুরস্ক, জর্ডান, গ্রিস, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও সুইজারল্যান্ড থেকেও জেমিনি নিয়ে সমস্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তবে এসব বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি। একই সময়ে একাধিক এআই প্ল্যাটফর্মে সমস্যা দেখা দেওয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে।
জেমিনির সমস্যার বিষয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত গুগলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। একইভাবে চ্যাটজিপিটির মূল প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং গ্রকের নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
ক্লডের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের পক্ষ থেকেও এ সময় পর্যন্ত বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্বজুড়ে চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, গ্রক ও ক্লডের মতো এআই প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ব্যক্তিগত ব্যবহার থেকে শুরু করে শিক্ষা, গবেষণা, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ব্যবসা ও কনটেন্ট তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে এসব সেবার ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। ফলে একাধিক প্ল্যাটফর্মে একই সময়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী সাময়িকভাবে বিড়ম্বনায় পড়েছেন।
তবে প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমস্যাটি সব ব্যবহারকারী বা সব অঞ্চলে সমানভাবে দেখা দেয়নি। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাতেও পার্থক্য রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিভ্রাটের কারণ, ব্যাপ্তি এবং সেবাগুলো পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লেগেছে—সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।
মতামত দিন