Views Bangladesh Logo

রামিসা হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দ্রুত দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল করা হবে। এরপর বিচারের দায়িত্ব আইন বিভাগের। আমরা আশা করছি, সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পেশাদার অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। যারা দীর্ঘদিন ধরে আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস এলো।

এদিকে, রামিসা হত্যা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। বুধবার (২০ মে) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, জবানবন্দিতে সোহেল দাবি করেন, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসাকে কৌশলে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। এরপর বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে।

এ সময় রামিসার মা মেয়েকে খুঁজতে এসে দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। তখন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সোহেল শিশুটিকে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে দেহ খণ্ডিত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে ফ্ল্যাটের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর দীর্ঘ সময় খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে অনুসন্ধান শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা।

পরে অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে একটি কক্ষে শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বাথরুম ও অন্য কক্ষ থেকেও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা। প্রথমে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত সোহেল জবানবন্দিতে ঘটনার আগে মাদক সেবনের কথাও স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব কোনো বিরোধ ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ