Views Bangladesh Logo

চৈত্র সংক্রান্তি আজ

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে চৈত্র সংক্রান্তি; যা বাংলা বছরের শেষ দিন। বিদায় ও নবায়নের এই সন্ধিক্ষণে মানুষ পুরোনো বছরের জীর্ণতা, দুঃখ ও নেতিবাচকতাকে পেছনে ফেলে নতুন বছরের দোরগোড়ায় বুকভরা আশা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

চৈত্র মাসের শেষ দিন ঋতু পরিবর্তনেরও প্রতিফলন ঘটায়। মাসজুড়ে তীব্র গরম পুরনো চক্রের সমাপ্তিকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। ঝরা পাতা ও প্রকৃতির নানান শব্দ নতুন শুরুর বার্তা নিয়ে আসে।

গ্রামাঞ্চলে এই দিন উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়। মানুষ পুরনো হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে নতুন খাতা খোলার প্রস্তুতি নেয়, যা ‘হালখাতা’ নামে পরিচিত। পরিবারগুলো ঐতিহ্যবাহী নিরামিষ খাবার রান্না করে, যার মধ্যে রয়েছে চোদ্দ প্রকার শাক-সবজি ও ভাজা শস্যদানা (ছাতু)। এসব ঐতিহ্য বিশুদ্ধতা ও নতুন শুরুর প্রতীক।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এই দিনের ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিসীম। তারা বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালন করে, শিবপূজা করে, উপবাস পালন করে এবং নানা ধর্মীয় অনুশীলনে অংশ নেয়।

এই সময় তিন দিনব্যাপী উৎসব পালন করে পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীরা। তারা ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মাধ্যমে চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষ উদযাপন করে, যা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে।

শহরের জীবনযাত্রা অনেক পরিবর্তন হলেও গ্রামীণ ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে। মেলা, লোকনাট্য, পুতুল নাচ, লোকগীতি ও বায়োস্কোপ প্রদর্শনী এই দিনকে উৎসবময় করে তোলে। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এসব ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছে।

এ বছরও দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি লোকশিল্প প্রদর্শনী, ধামাইল নৃত্য, জারি গান, পটগান ও কবিতা আবৃত্তির আয়োজন করেছে। এছাড়া ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’ নামক লোকনাট্য মঞ্চস্থ হচ্ছে।

চৈত্র সংক্রান্তি বাঙালির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক দিন। এটি বিদায় ও আশার প্রতীক—এক বছরের সমাপ্তি এবং আরেক বছরের শুরু।




মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ