বসতঘরের দরজায় শিকল লাগিয়ে আগুন, টিনের বেড়া কেটে বাঁচলেন দম্পতি
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বসতঘরের দরজায় বাইরে থেকে শিকল লাগিয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। আগুনে ঘর পুড়ে গেলেও টিনের বেড়া কেটে বের হয়ে প্রাণে বেঁচেছেন লাল মিয়া ও তার স্ত্রী মোসাম্মৎ বেগম। এ ঘটনায় লাল মিয়া দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সখীপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর গ্রামের উখারিয়াচালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতের কোনো এক সময় লাল মিয়ার বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়। আগুনের তাপে ঘুম ভেঙে গেলে লাল মিয়া ও তার স্ত্রী ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দরজা খুলতে না পেরে তারা বুঝতে পারেন, বাইরে থেকে দরজায় শিকল লাগানো হয়েছে।
পরে দা-বঁটি দিয়ে ঘরের টিনের বেড়া কেটে বাইরে বের হয়ে আসেন তারা। এ সময় আগুনে লাল মিয়া দগ্ধ হন। স্থানীয়দের সহায়তায় রাতেই তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
লাল মিয়ার অভিযোগ, কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও রয়েছে। ঘটনার দুই দিন আগে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
প্রতিবেশী আজমত আলী ও তার স্ত্রী রুকিয়া জানান, রাতে কান্নাকাটির শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন, ঘরের বাইরের দরজা শিকল দিয়ে আটকানো এবং ভেতরে আগুন জ্বলছে। এর মধ্যেই লাল মিয়া ও তার স্ত্রী টিনের বেড়া কেটে বের হয়ে আসেন।
স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বশত্রুতার জেরে কেউ পরিকল্পিতভাবে ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকে আগুন দিয়ে থাকতে পারে। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সখীপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা রতন রায় বলেন, রাত ৩টা ২০ মিনিটে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। তখন ঘরটি আগুনে পুড়ে যায়। তাদের কাছে খবর পৌঁছাতেও অনেক দেরি হয়েছিল।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত দিন