Views Bangladesh Logo

সাভারে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় মামলা, আসামি ৬-৭ জন

ঢাকার সাভারের সাধাপুর এলাকায় একটি শক্তিশালী প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধারের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ইমরান হোসেন।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, বুধবার সাভারের সাধাপুর এলাকার একটি মসজিদের খোলা মাঠে কালো টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি শক্তিশালী প্রেশার কুকার বোমা পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকা নিরাপত্তার আওতায় নেন। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।

এর আগে সাভারে ভুয়া পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) বোমা তৈরির কার্যক্রম চালানোর তথ্য পাওয়ার কথা জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে সাভারের তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এর আগে হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একটি ব্যাগসহ আরিফ নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, আরিফের ব্যাগ তল্লাশি করে বিশেষভাবে লুকানো ছয়টি পাইপ বোমা ও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দক্ষিণ শ্যামপুরের একটি বাড়ির তথ্য পাওয়া যায়।

ওই তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে আরও নয়টি পাইপ বোমা, গান পাউডার, সায়ানাইডসহ বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা মোট ১৫টি পাইপ বোমা নিষ্ক্রিয় করে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির মালিক আব্দুল জলিলের কাছ থেকে চলতি মাসের ২ আগস্ট নিচতলার একটি কক্ষ ভাড়া নেয় একটি পরিবার। পরদিন থেকেই তারা সেখানে বসবাস শুরু করে। বাসা নেওয়ার সময় তারা নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন করেছিল বলে বাড়ির মালিকের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

বাড়ির মালিকের মেয়ে ইলমা জানান, আব্বাস আলী নামে একজনসহ আরও একজন প্রথমে বাসা ভাড়া নিতে আসেন। তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে পরিবার নিয়ে থাকার কথা বলেন। একজন গাড়িচালক হিসেবে কাজ করবেন এবং শিশুদের পড়ানোর জন্য স্থানীয় একটি স্কুলে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছিলেন।

পরিবার নিয়ে থাকার কথা বলায় তাদের নিয়ে বাড়ির মালিকের সন্দেহ হয়নি। পরে ওই বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্রের দাবি, ওই আস্তানায় ‘বোমারু মামুন’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তিরও যাতায়াত ছিল। বোমা তৈরিতে দক্ষ হিসেবে পরিচিত ওই ব্যক্তি সেখানে বোমা তৈরির কাজ তদারকি করতেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তার পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ