নাটোরে ২১ বছর বয়স দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুর নামে মামলা
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখমের মামলায় মাত্র ৭ বছরের এক শিশুকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রোববার (২৬ এপ্রিল) শিশুটি তার বাবার সঙ্গে আদালতে হাজির হলে বিষয়টি দেখে বিচারক বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল ধারাবারিষা শাহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গুরুদাসপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবণ সরকারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় ১০ এপ্রিল তার বাবা বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।
অভিযোগপত্রে তিন নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয় হোসেন আলীকে, যাকে কাগজে-কলমে ২১ বছর বয়সী হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু বাস্তবে সে স্থানীয় ধারাবাড়িষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র এবং তার প্রকৃত বয়স মাত্র ৭ বছর—জন্মসনদেও বিষয়টি স্পষ্ট।
আদালতে হাজির হওয়ার পর বিচারক বিষয়টি দেখে অবাক হয়ে যান। শুনানি শেষে শিশুটির জামিন মঞ্জুর করা হয় এবং মামলার বাদীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ জারির নির্দেশ দেন।
শিশুটির আইনজীবী শামীম হোসেন বলেন, শিশুটি ঘটনার সময় স্কুলে উপস্থিত ছিল। শুধুমাত্র প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এ ধরনের হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
শিশুটির বাবা শাহজাহান আলী বলেন, আমার অবুঝ সন্তানকে নিয়ে আদালতে আসতে হবে—এটা কখনো কল্পনাও করিনি। যারা এভাবে মিথ্যা মামলা দিয়েছে, তাদের বিচার চাই।
আইনজীবীরা বলছেন, প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে অনেক সময় পরিবারের সবাইকে আসামি করা হয়, তবে শিশুর মতো স্পষ্ট বয়সের ক্ষেত্রে তদন্ত পর্যায়ে বিষয়টি যাচাই না হওয়া বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে