রংপুরে চার খুন: অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা
রংপুর নগরের কামাল কাছনা এলাকার মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
রোববার রংপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। মামলায় কোনো আসামির নাম বা আসামির সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
নিহতরা হলেন- গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওরফে বুলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ওরফে প্রার্থী (২৬) এবং ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী ওরফে প্রিয়ম (১২)।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতার মুঠোফোন থেকে তার বোন পূজা চক্রবর্তীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন রাত আড়াইটার দিকে পূজা তার বোনকে ফোন করলেও কথা বলতে পারেননি। ২২ আগস্ট সকালে আবার ফোন করলে পরিবারের চার সদস্যের মুঠোফোনই বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পূজা তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার রাতে বোনের বাড়িতে যান। বাড়িটি অন্ধকার এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তারা প্রতিবেশীদের জানান। পরে বাড়ির ছাদে উঠে জানালার লক ভেঙে ভেতরে তাকালে ঘরের আসবাব এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান তারা। একই সঙ্গে বাড়ির ভেতর থেকে পচা গন্ধও বের হচ্ছিল।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২১ আগস্ট রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে ২২ আগস্ট সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা যোগসাজশে চারজনকে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাটিকে ভিন্ন কোনো ঘটনার মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মামলার তদন্তে এরই মধ্যে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল কাদের জানান, হত্যায় জড়িত সন্দেহে মাছুয়াপাড়া গ্রামের মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) আটক করা হয়। পরে তাদের দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কাজ করেন। আর সিদ্ধার্থ প্রায় আট বছর ধরে একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।
রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ওঠেন। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিলেন। শব্দ শুনে গণপতি ছাদে গেলে তাদের বাধা দেন। এ সময় তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়।
পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, গণপতির চিৎকার শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করলে সিঁড়িতে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তাদের মেয়ে ও ১২ বছরের ছেলেকেও হত্যা করা হয়। নিহতরা আসামিদের চিনতেন এবং পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।
মতামত দিন