ইতিহাস সৃষ্টি করে বিশ্বকাপের রাউন্ড ৩২-এ কেপ ভার্দে
মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যার ছোট্ট আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের মঞ্চে লিখল এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস। সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার পর এবং একই সময়ে উরুগুয়ে স্পেনের কাছে হেরে যাওয়ায় গ্রুপ এইচে দ্বিতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ব্লু শার্করা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল কেপ ভার্দে।
গত বছরের ১৩ অক্টোবর ইসোয়াতিনিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছিল কেপ ভার্দে। বাছাইপর্বে তারা ছিল বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে ছোট এবং জনসংখ্যার দিক থেকে অন্যতম ক্ষুদ্রতম দল। আফ্রিকার বাছাইপর্বে শক্তিশালী ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে গ্রুপসেরা হয়েই বিশ্বকাপের মঞ্চে আসে তারা।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে চমক দেখায় কেপ ভার্দে। এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে আরও নাটকীয় পারফরম্যান্স করে তারা। ম্যাচের ২১তম মিনিটে কেভিন পিনার দুর্দান্ত দূরপাল্লার ফ্রি-কিকে কেপ ভার্দেকে এগিয়ে দেন—যা ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাদের প্রথম গোল। ৩২ মিটার দূর থেকে নেওয়া সেই শট ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম দীর্ঘ দূরত্বের গোল।
তবে উরুগুয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে বিরতির আগেই আরাউহো ও কানোব্বিওর গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। কিন্তু ৬১তম মিনিটে গোলরক্ষকের ভুল কাজে লাগিয়ে হেলিও ভারেলা সমতা ফেরান। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-২ ড্র হয়।
টানা দুই ম্যাচ অপরাজিত থেকে কেপ ভার্দে ২০০২ সালের সেনেগালের পর প্রথম অভিষেক দল হিসেবে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে হার এড়ানোর কীর্তি গড়ে। সৌদি আরবের বিপক্ষে শেষ ম্যাচেও তারা নিজেদের লড়াকু মানসিকতা ধরে রাখে।
সৌদির বিপক্ষে ম্যাচে কেপ ভার্দে ১৬টি শট নেয়, যার মধ্যে ৩টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে গোলরক্ষক ভোজিনহা সৌদি আরবের তিনটি শটই সফলভাবে ঠেকিয়ে দেন।
কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা আগেই বলেছিলেন, ছোট দেশ হলেও ঐক্য ও লড়াইয়ের মানসিকতা থাকলে বড় দলের বিপক্ষেও দাঁড়ানো সম্ভব। বিশ্বকাপের মঞ্চে তার দল সেটিই প্রমাণ করেছে।
গ্রুপ এইচ'র চূড়ান্ত অবস্থানে স্পেন ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, আর কেপ ভার্দে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়। শেষ ৩২-এর পর্বে কেপ ভার্দের সামনে অপেক্ষা করছে বড় পরীক্ষা—তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্রের সামনে এবার মেসিদের চ্যালেঞ্জ, তবে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় রূপকথার গল্পগুলোর একটি লিখে ফেলেছে ব্লু শার্করা।
মতামত দিন