ইতিহাসে প্রথমবার শেষ ষোলোতে কানাডা, অতিরিক্ত সময়ে কপাল পুড়ল দক্ষিণ আফ্রিকার
লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে স্টেফেন ইউস্তাকিওর গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল কানাডা। বিশ্বকাপের রাউন্ড ১৬ তে এটিই কানাডার প্রথমবার। ১৯৮৬ ও ২০২২ সালে বিশ্বকাপে খেলে দুইবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। এবার স্বাগতিক দেশ হিসেবে তৃতীয়বার বিশ্বকাপে নেমে সেই ইতিহাস বদলে দিল লাল-সাদারা।
পুরো ম্যাচে একচেটিয়া আক্রমণ করে গেছে কানাডা, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার গোলকিপার রনওয়েন উইলিয়ামস বারবার দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ৪৪তম মিনিটে ইউস্তাকিওর কর্নার থেকে বম্বিতোর হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার অব্রে মডিবা, এরপর রিবাউন্ড থেকে বুশানের শটও বাঁচিয়ে দেন উইলিয়ামস।
দক্ষিণ আফ্রিকা কৌশলগতভাবে বল দখলে রেখে কানাডার আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করেছে, যা মাঠে দর্শকদের কাছ থেকে বিরক্তিও কুড়িয়েছে।
৭৫তম মিনিটে কোচ জেসি মার্শ বুশানের জায়গায় আঘাত থেকে ফেরা অ্যালফোনসো ডেভিসকে মাঠে নামান। পুরো গ্রুপ পর্ব হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে মিস করা এই তারকার মাঠে নামায় সোফি স্টেডিয়াম উত্তেজনায় ফেটে পড়ে। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই ডিফেন্ডারকে টেনে নিয়ে জায়গা তৈরি করেন ডেভিস। বক্সে ক্রস করা হলে দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার হেড করে ক্লিয়ার করতে গিয়ে সরাসরি ইউস্তাকিওর দিকে পাঠিয়ে দেন, আর তিনি দেরি না করে ডান পায়ে ভলিতে বল জালে পাঠান। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটের সেই গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
পরিসংখ্যানেও কানাডার আধিপত্য স্পষ্ট। মোট শটে কানাডা ১৪-৬ এ এগিয়ে, শট অন টার্গেটে ৭-২। বল দখলে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫৮-৪২ শতাংশে এগিয়ে থাকলেও তাদের আক্রমণ ছিল একেবারে শূন্য — পাস নির্ভুলতায় ৮৬ শতাংশ নিয়েও মাত্র ১টি কর্নার পেয়েছে বাফানা বাফানা। কানাডা ১৫টি ফাউল করে দুটি হলুদ কার্ড দেখেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো কার্ড নেই।
রাউন্ড ১৬ তে কানাডার মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কো — ম্যাচটি হবে হিউস্টনে।
ডেভিসের প্রত্যাবর্তনে সামনের পরীক্ষার জন্য আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে কানাডা — স্বাগতিক দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়টি এখন শুধু শুরু হলো।
মতামত দিন