Views Bangladesh Logo

মৌলভীবাজারে এক মাস ধরে বন্ধ ক্যামেলিয়া হাসপাতাল, বিপাকে লাখো চা শ্রমিক

মৌলভীবাজারের চা বাগানঘেরা অঞ্চলে লক্ষাধিক শ্রমিক পরিবারের একমাত্র ভরসা ক্যামেলিয়া হাসপাতাল টানা এক মাস ধরে বন্ধ থাকায় ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছেন মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার প্রায় ৩৫টি চা বাগানের মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটি বন্ধ থাকার কারণে গত এক মাসে প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৫ এপ্রিল শমশেরনগর চা বাগানের রবি চাষা স্ট্রোক করে মারা যান। এছাড়া অনিল রেলি, মাধুরি শাহা, লক্ষ্মী শাহা, ডবলছড়া চা বাগানের জুগল মির্ধা, কানিহাটি চা বাগানের বাসন্তী রবিদাসসহ আরও কয়েকজনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

চা শ্রমিকরা জানান, হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় তারা জরুরি চিকিৎসা সেবা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। অনেকেই অর্থের অভাবে দূরের হাসপাতালে যেতে পারছেন না। ফলে অসুস্থতা বাড়লেও চিকিৎসা না নিয়েই থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও গুরুতর রোগীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

জানা গেছে, গত ২৭ মার্চ ঐশী রবিদাস নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি অংশ হাসপাতালে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মীদের অবরুদ্ধ করে। এরপর চিকিৎসক ও নার্সদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এটি ইংল্যান্ডভিত্তিক ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান।

চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, হাসপাতালটি বন্ধ থাকায় লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। টাকার অভাবে অধিকাংশ শ্রমিক বাইরে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা পেলে অনেক প্রাণ বাঁচানো যেত।

শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক ও ডানকান ব্রাদার্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালটি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। তবে এটি একটি আলাদা ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় সিদ্ধান্তটি ইংল্যান্ড থেকেই আসবে।

এ বিষয়ে মো. আসাদুজ্জামান, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, হাসপাতাল চালুর বিষয়ে ইংল্যান্ড থেকে একটি চিঠি আসার কথা থাকলেও তা এখনো পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, চিঠি পেলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দ্রুত হাসপাতালটি চালুর চেষ্টা করছি।

প্রসঙ্গত, ঐশী রবিদাস অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তবে স্বজনদের আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালে তার মৃত্যু হলে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই হাসপাতালটি বন্ধ রয়েছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ