বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদতবার্ষিকী মর্যাদার সঙ্গে পালনের আহ্বান পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদতবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদ।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের আহ্বায়ক ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, কো-আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম. অহিদুজ্জামান ও সদস্য সচিব কৃষিবিদ মিজানুর রহমান এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ ২৩ বছরের পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ধাপে ধাপে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলার নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে জীবনের মূল্যবান যৌবনের প্রায় ১৪ বছর কারাগারের প্রকোষ্ঠে কাটাতে হয়েছে তাকে।
সংগঠনটি জানায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করা মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং অসংখ্য নারীর সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির পর বাঙালি জাতি শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে। পরে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরার পর তাকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।
পেশাজীবী মানবাধিকার পরিষদের নেতারা বলেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন ও জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করার সময়ই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনাকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনটি ১৫ আগস্টের কালরাতে নিহত বঙ্গবন্ধু, তার পরিবারের সদস্য ও অন্য নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায় এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে।
নেতারা বলেন, বাঙালি জাতির ভাগ্য পরিবর্তন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং অত্যাচার-নির্যাতনমুক্ত শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।
বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদতবার্ষিকী যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
মতামত দিন