আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে তিন দিনের ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও ডিসিদের নির্দেশ দেন তিনি।
মাঠ প্রশাসন সম্পর্কিত বিষয়ে ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে উপদেষ্টাদের উন্মুক্ত অধিবেশনে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের বিশেষ সহকারী, জ্যেষ্ঠ সচিব এবং সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
১৮ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) শেষ হওয়া এই সম্মেলনে ৫৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অফিস এবং সংস্থার মোট ৩৫৪টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।
এ বছরের ডিসি সম্মেলনে ৩৪টির মধ্যে প্রথম দিনে ছয়টি, দ্বিতীয় দিনে ১২টি এবং তৃতীয় দিনে ১৬টি অধিবেশন রয়েছে।
সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনটি ছিল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সম্পর্কে। অন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধিবেশনগুলো ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনে স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা, বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পনা বিভাগ নিয়ে আলোচনা হবে।
বাকি দুুদিনে অন্য মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনাররা। অধিবেশনগুলোতে থাকবেন প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী, সচিব এবং বিভাগ এবং সংস্থার প্রধানরা।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শেখ আবদুর রশিদ উল্লেখ করেন, গত বছর ডিসি সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তের মাত্র ৪৬ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের অগ্রাধিকারের অনেক বিষয় বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ কারণে অনেক বিষয় সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়নি।
এবারের সম্মেলনে ভূমি ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হবে।
কয়েকজন জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন, ডিসি সম্মেলন প্রতি বছর জমকালোভাবে হলেও এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রায়শই আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বাধাগ্রস্ত হয়। সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো প্রায়শই ‘অমীমাংসিত’, ‘চলমান’ বা ‘অবাস্তবায়িত’ শব্দের আড়ালে চাপা পড়ে যায়। ফলস্বরূপ, পূর্ববর্তী বছরের প্রস্তাবগুলো প্রায়শই পরের সম্মেলনে ফের উত্থাপিত হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কিত প্রতিবেদন অনুসারে, ডিসি সম্মেলনে গৃহীত ৯০ শতাংশেরও বেশি সিদ্ধান্ত প্রতি বছর কাগজে-কলমে বাস্তবায়িত হতে দেখা যায়। তবে, বাস্তবে, বাস্তবায়নের হার ৬০ শতাংশেরও কম।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে