Views Bangladesh Logo

ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী বোয়িং কিনছি: বিমানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল। তবে জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কচাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত উড়োজাহাজ কেনার আদেশ গেছে মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাওয়া অনুযায়ীই এই উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

সোমবার ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় মন্ত্রী বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ট্রাম্প একটা জিনিস চেয়েছে যে, ‘আমাদের বোয়িংগুলি ইউজ করেন’। আমরা করছি, আমরা কিনছি। ১৪টি বোয়িং কিনছি, আরও আমরা লিজ নিব।’’ তবে শুধু বোয়িংয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না বাংলাদেশ, ইউরোপীয়দের চাপে এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনার কথা জানিয়েছেন তিনি।”

তিনি বলেন, ‘আমরা এদিকে ফ্রান্স, ইংল্যান্ড এবং জার্মানি থেকে যে এয়ারবাস (উড়োজাহাজ) তৈরি হয়, সেখান থেকে ওদের কাছ থেকেও কিনছি, ওদের কাছ থেকেও কিনব। আমরা সবকিছুই বাড়াব, ভালো করব।’

জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মিল্লাত গত ২৭ আগস্ট ময়মনসিংহ, শেরপুর ও নেত্রকোণায় সরকারের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পান। নানা আলোচনার মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই এয়ারক্রাফটগুলো সরবরাহ করবে বোয়িং।

সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী মিল্লাত। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশটাকে উন্নত করব; যার যার যে দায়িত্ব রয়েছে—আমার যে দায়িত্ব রয়েছে, আমি পালন করব। এখানে কিন্তু সকলেই, যার যার দায়িত্ব আছে—শুধু দায়িত্ববান হলেই হলো, আর কিছু লাগে না।’

সাবেক সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন এখন। বিগত সরকারের আমলে, ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে যেভাবে কাজ চলেছে, এই বর্ণনা করতে গেলে অনেক সময় লাগবে বা আপনারা সবাই জানেন। এবং অনেকেই হয়তো ইচ্ছা না থাকলেও যেহেতু সরকারি কর্মকর্তা, তাদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে হয়েছে। যে কাজগুলি জনবিরোধী কাজ ছিল।’

তিনি বলেন, ‘এখন আমরা করতে চাই জনবান্ধব কাজ। জনবান্ধব কাজ করতে হলে আপনাদের সকলকে একটু সেক্রিফাইস করতে হবে। …আমাদের কাজগুলি যদি আমরা না করি, তাহলে আমাদের নিজেদের কাছে লজ্জাবোধ করব—এরকম ধরনের একটা মানসিকতা যাতে সৃষ্টি হয়, তাহলেই আপনি দেখবেন যে আমাদের কাজ করার প্রবণতা বেড়ে যাবে এবং আমরা স্বেচ্ছায় যার যার যে কাজের পরিধি রয়েছে, সে কাজগুলি আমরা করতে পারব।’

নিজের দায়িত্ব প্রসঙ্গে মন্ত্রী মিল্লাত বলেন, ‘আমি মনে করি যে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে—ময়মনসিংহ, শেরপুর এবং নেত্রকোণা; আমি মনে করি সকল এমপিদের সাথে নিয়ে, আমাদের প্রশাসনের লোকদের সাথে নিয়ে, কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে আপনাদের যা যা প্রয়োজন রয়েছে—এই জেলাগুলির উন্নয়ন করার জন্য, আমি আমার সর্বাত্মক চেষ্টা করব। কতটুকু পারব আমি জানি না, বাট আমি ১০০% চেষ্টা আপনাদের জন্য দিব—এই এলাকাগুলির উন্নয়ন করার জন্য এবং জনগণের এই যে ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা এগুলো পূরণের জন্য আপনাদের মাধ্যমে।’

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিজেরা জনপ্রতিনিধি যারা আছে, তারা যদি কাজগুলি ঠিকমতো না করি, তাহলে তারা কিন্তু বিরক্ত হবে, মুখ ফিরিয়ে নিবে। …শেখ হাসিনার বিদায় যদি এরকম হয়ে থাকে এবং তার থেকে যদি আমরা রাজনীতিবিদেরা শিক্ষা না নিই, তাহলে এই বাংলাদেশ আর কোনদিন শিক্ষিত হবে না। শিক্ষা নিতে হবে। জোরপূর্বক কোনো কিছু করা এবং স্বৈরাচারতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে আমাদের কর্মকর্তাদের হুকুম দেওয়া এবং তাদেরকে কাজে বাধ্য করা, অকাজে বাধ্য করা—এইগুলির কাজ যে ছিল, এই কাজগুলি আমাদের মাননীয় প্রধান তারেক রহমান খণ্ডন করতে চান। এটার অপোজিট ওয়ার্ক করতে চান। সেটা কাদেরকে নিয়ে? আপনাদেরকে নিয়ে।’



মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ