৩০ ফুট গভীরে ডুবে গেছে বাস, ঝড়বৃষ্টিতে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যহত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি প্রায় ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। বাসটিকে টেনে তোলার চেষ্টা করা করা হচ্ছে, কিন্তু এখনও বাসটি দৃশ্যমান হয়নি। এদিকে, ঝড়বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কার্যক্রম কিছুটা ব্যহত হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটিতে মোট ৪৩ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। নদীতে পড়ে যাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইন্সপেক্টর মো. আনোয়ারুল ইসলাম সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে জানান, বাসটি পানির নিচে প্রায় ৩০ ফুট গভীরে রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ৫ থেকে ৭ জন যাত্রী কোনোভাবে বাস থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার খবর ফায়ার সার্ভিস পায় বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে এবং ছয় মিনিটের মধ্যেই গোয়ালন্দ থেকে একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পরে আরিচা ঘাট থেকে আরও একটি দল যোগ দেয়। বর্তমানে দুই ইউনিট মিলিয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ডুবুরি উদ্ধার তৎপরতায় কাজ করছেন। এছাড়া রাজধানীর সিদ্দিকবাজার থেকেও আরও দুটি ডুবুরি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় পড়া বাসটি সৌহার্দ্য পরিবহনের, যেটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে এসেছিল। রাজবাড়ী কাউন্টারের ম্যানেজার সিরাজ আহমেদ জানান, বাসের চালক ও হেলপারের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া সাতজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পর উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, নৌপরিবহন সংশ্লিষ্ট সংস্থা, নৌপুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
দৌলতদিয়া ঘাট সূত্র জানিয়েছে, বাসটি যেখানে ডুবে গেছে সেখানে নদীর গভীরতা বেশি হওয়ায় উদ্ধার কাজ জটিল হয়ে পড়েছে। এখনো পর্যন্ত ডুবন্ত বাসটি সম্পূর্ণভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে