প্রথম ভাষণেই পরিবর্তনের অঙ্গীকার বার্নামের, ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’
যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে পরিবর্তন, জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নাম। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের (রাজনীতিবিদদের) আরও ভালো হতে হবে।’
রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাওয়ার পর দেওয়া ভাষণে বার্নাম জানান, যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ গঠনে তার সরকারের হাতে রয়েছে ১০ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা। একই সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট মোকাবিলা থেকে শুরু করে আবাসন, শিক্ষা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে।
পূর্বসূরি কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর দায়িত্ব নেওয়া বার্নাম বলেন, দেশের মানুষ রাজনীতির প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। অতীতের ব্যর্থতা স্বীকার করে তিনি বলেন, রাজনীতিবিদরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সফল হননি। এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর সময় এসেছে।
তিনি বলেন, গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়েই তার সরকার কাজ করবে। অতিরিক্ত লন্ডনকেন্দ্রিক প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে স্থানীয় পর্যায়ে আরও বেশি ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেওয়াকে তিনি অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
বার্নাম স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৬ সালের পর তিনি যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ভালো নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিবিদদের দায়িত্বশীলতা ও কাজের মান আরও বাড়াতে হবে।
দেশের হারানো স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান নতুন প্রধানমন্ত্রী। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমাতে এবং সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে আগামীকাল থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি। এসব পরিকল্পনার অর্থায়নের উৎসও পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে।
ভাষণে আবাসন সংকটের বিষয়েও গুরুত্ব দেন বার্নাম। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম নির্দেশই হবে গৃহহীনতা ও খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর পরিস্থিতি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া। একই সঙ্গে সরকারি আবাসন (কাউন্সিল হোম) নির্মাণ বাড়িয়ে কল্যাণ তহবিলের ওপর চাপ কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানান।
এ ছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় রাষ্ট্রীয় সহায়তা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাগুলোতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং ব্রিটিশ শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।
বার্নাম জানান, যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের রূপরেখা নির্ধারণে চলতি বছরের শেষ দিকে তার সরকার একটি ১০ বছর মেয়াদি জাতীয় মহাপরিকল্পনা প্রকাশ করবে।
মতামত দিন