মাদারীপুরে ৭ দোকানে ডাকাতি: কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার লুট
মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের হাউসদী বাজারে সাতটি দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ছয়টিই স্বর্ণের দোকান। ডাকাত দল কয়েক কোটি টাকার স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুট করেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে বাজারের স্বর্ণকার পট্টিতে এই ঘটনা ঘটে। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার সময় মিলন মোল্লা নামে এক রাজমিস্ত্রি বাজারে নৈশকালীন (নাইট শিফট) কাজ করছিলেন। তিনি ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় ডাকাত সদস্যরা তাকে পিটিয়ে হাত-পা বেঁধে আহত করে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোরে মুখোশধারী একদল ডাকাত প্রথমে 'নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্স'-এর তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ধারাবাহিকভাবে 'শ্রীশ্রী জগদীশ ঠাকুর জুয়েলার্স', 'নিউ নারায়ণ জুয়েলার্স', 'ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্স', 'নিউ কনিকা জুয়েলার্স', 'মা লক্ষ্মী জুয়েলার্স' এবং 'জিয়া স্টোর' নামক একটি মুদি দোকানে হানা দেয়। ডাকাতরা দোকানগুলোর আলমারি ও ক্যাশ বাক্স ভেঙে সোনা, রুপা ও নগদ টাকা নিয়ে যায়।
ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্সের মালিক সেন্টু মাল বলেন, ‘আমার দোকানে ৩০ ভরি স্বর্ণ, ৫০০ ভরি রূপা ছিল ও ক্যাশ বাক্সে প্রায় এক লাখ টাকা ছিল। সবই লুট করে নিয়ে গেছে। আমি এখন সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি।’
নিউ প্রিয়াংকা জুয়েলার্সের মালিক পরিমল মাল বলেন, তার দোকানে আড়াই ভরি স্বর্ণ, এক কেজি রুপার গহনা এবং নগদ ৯৫ হাজার টাকা ছিল। তিনি দাবি করেন, ছয়টি স্বর্ণের দোকান মিলিয়ে অন্তত তিন কোটি টাকার মালামাল ও নগদ টাকা লুট হয়েছে।
এই ডাকাতির খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ। তিনি আরও জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে