নিম্ন আয়ের মানুষের করদায় বাড়ছে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত: সিপিডি
২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্ন ও মধ্য আয়ের করদাতাদের ওপর করের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন করকাঠামোয় কম আয়ের মানুষের করদায় সাড়ে ১২ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশের বেশি পর্যন্ত বাড়তে পারে।
রোববার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত বাজেট পর্যালোচনা সংলাপে সিপিডি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, ব্যক্তি আয়কর কাঠামোয় যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেখানে নিম্ন আয়ের করদাতাদের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি চাপ পড়ছে, যা বৈষম্য আরও বাড়াতে পারে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন জানান, যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৬ থেকে ১৫ লাখ টাকা, তাদের ক্ষেত্রে করের বোঝা ১২ দশমিক ৫ থেকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। বিপরীতে ৩০ লাখ টাকার বেশি আয় করা উচ্চ আয়ের করদাতাদের কর বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
সংস্থাটি মনে করছে, এই কাঠামো সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, করনীতিতে আয় অনুযায়ী ভারসাম্য না থাকায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণিই বেশি চাপের মুখে পড়ছে।
অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, সরকার যে ১৮ মাসে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন নেই। শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প ও বাণিজ্য—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ বাড়েনি বা স্থবির রয়েছে বলেও মন্তব্য করা হয়।
সিপিডি আরও সতর্ক করে বলে, মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে, যদি খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ এবং মুদ্রানীতি আরও কার্যকর না হয়। বর্তমানে মূল্যস্ফীতির চাপ উচ্চ অবস্থায় থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও সংস্থাটি বলছে, এসব খাতের বরাদ্দ বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে ব্যয় হবে তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সব মিলিয়ে সিপিডির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটের কর ও ব্যয় কাঠামোতে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ বাড়ার প্রবণতা রয়েছে, যা অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও গভীর করতে পারে।
মতামত দিন