Views Bangladesh Logo

কক্সবাজারে বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি বৌদ্ধ বিহারে হামলা, বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর এবং তঞ্চঙ্গা সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছেনছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সরদার মং চৌধুরীর অভিযোগ, ২০০৭ সাল থেকে চলমান জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় নুরুল হকের নেতৃত্বে প্রায় ২০০ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে। তার দাবি, বন বিভাগের সদস্যদের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা ছেনছড়ি বৌদ্ধ বিহারে ভাঙচুর চালায়। এতে বিহারের অন্তত তিনটি বুদ্ধমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময় তঞ্চঙ্গা সম্প্রদায়ের অন্তত চারটি পরিবারের বাড়িঘরেও হামলা চালানো হয়।

মং চৌধুরী বলেন, তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন এবং যেকোনো সময় আবার হামলার আশঙ্কা করছেন।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে বৌদ্ধ বিহারের ভেতরে ভাঙা বুদ্ধমূর্তি দেখা গেলেও সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে চাকমা-তঞ্চঙ্গা স্টুডেন্ট কাউন্সিল (উখিয়া-টেকনাফ)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক নেপাল চাকমা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এলাকায় বসবাসরত আদিবাসী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কানন বড়ুয়া বিশালও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, কক্সবাজার দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত। এ ধরনের ঘটনা সেই ঐতিহ্যের পরিপন্থী। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে এটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তিনি জানান, এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, এ ঘটনায় বন বিভাগের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগে নাম আসা নুরুল হকের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ