বিটিআরসি ভবনে হামলা, ভাঙচুর
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) ভবনে হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। ইট, পাটকেল ও পাথর ছুঁড়ে ভবনে হামলা চালানো হয়। এতে ভবনের কাঁচ ভেঙে যায়। এছাড়া নীচতলার অভ্যর্থনা কক্ষের অংশটি ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলার সময় ভবনের ভেতরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে বিটিআরসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী বহুল আলোচিত এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার) পদ্ধতি চালু হয়েছে। এ পদক্ষেপের ফলে দেশের বাজারে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা মোবাইল হ্যান্ডসেট নতুন করে আর ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। তবে আগে থেকে ব্যবহৃত হ্যান্ডসেট ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে গেছে। তবে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা হ্যান্ডসেট আজ থেকে মোবাইল নেটওয়ার্কে আর চালু হবে না। এর মাধ্যমে দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটের উৎপাদন, দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং সাধারণ ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। গ্রাহকরা প্রতারিত হওয়ার হাত থেকেও রক্ষা পাবেন।
তবে বিটিআরসি’র এ সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চোরাচালানের বাজারের উপর নির্ভরশীল কিছু ব্যবসায়ী। গত তিন মাস ধরে এই ব্যবসায়ীরা নানাভাবে বিটিআরসি’র এনইআইআর পদ্ধতি চালুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ বিকেল ৩টা থেকে ওই ব্যবসায়ীরাই মূলত জড়ো হতে থাকে বিটিআরসি ভবনের সামনে। এক পর্যায়ে তারাই ভবনে ইট, পাটকেল ও পাথর ছুঁড়ে হামলা চালাতে শুরু করে। আগারগাঁওয়ে দৃষ্টিনন্দন বিটিআরসি ভবন প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম হামলার ঘটনা ঘটল। হামলায় ভবনটির সামনের অংশের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে যায়। তারা ভবনের নীচতলাতেও ভাঙচুর চালায়।
বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেন, বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, অবৈধভাবে আমদানি ও বিক্রয় করা মোবাইল ফোনের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে দেশের বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ সেট জব্দ করা হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন মেনে চলার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, প্রবাসীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে- প্রবাসীরা দেশে ফেরার পর তাদের ব্যবহার করা ফোন আগামী তিন মাস বন্ধ করা হবে না। কেউ তিন মাসের কম সময় দেশে অবস্থান করলে রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হবে না, তিন মাসের বেশি হলে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
এছাড়া সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও আগামী তিন মাস ফোন ব্লক করা হবে না এবং ব্যবসায়ীদের স্টক-লট নিয়মিত করা হবে বলে জানিয়েছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেন, এজন্য বিটিআরসিকে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বৈধ নম্বরের তালিকা প্রদান করতে হবে শুধু। তবে নতুন অবৈধ হ্যান্ডসেট চলবে না। এই বাস্তবতায় স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন— সরকার সব বৈধ ও যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছে। শুল্ক কমানো হয়েছে, অবৈধভাবে আমদানি হওয়া ফোনও এই মুহূর্তে নিয়মের আওতায় আনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এরপরও যারা বিটিআরসিতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে, তারা কোনোভাবেই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে অবৈধ মোবাইল আমদানি রোধে দেশের সব স্থল ও বিমানবন্দরের কাস্টমস হাউজে কঠোর অভিযান শুরু হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তার স্বার্থে ‘NEIR’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিম, ডাটাবেজ ও ‘NEIR’ ডাটাবেজের অপব্যবহার রোধে নতুন টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশে কঠোর সুরক্ষা ধারা সংযোজন করা হয়েছে এবং যে-কোনো অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।’
বিটিআরসি ভবনে হামলার বিষয়ে সংস্থাটির উপ পরিচালক (মিডিয়া) জাকির হোসেন খাঁন ভিউজ বাংলাদেশকে জানান, বিটিআরসি ভবনে দুর্বৃত্তদের এ ধরনের হামলা নজিরবিহীন। হামলায় ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় ভবনের ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আটকা পড়েন এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তিন বলেন, এনইআইআর পদ্ধতি চালু করা হয়েছে মূলত সাধারণ মোবাইল গ্রাহকদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করা, সুলভ মূল্যে গুণগত মানসম্পন্ন হ্যান্ডসেট প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট উৎপাদন উৎসাহিত করার জন্য। বিটিআরসি বার বার স্পষ্ট করেছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যবহৃত হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে গেছে। তারপরও কিছু দুর্বৃত্ত এভাবে হামলা চালায়।
তিনি জানান, বিটিআরসি অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে