ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ ইস্যু এড়িয়ে গেল বিএমইউ প্রশাসন, সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত উপাচার্য
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর ‘আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস’ পদ বাতিলের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।
শনিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০তম সিন্ডিকেট সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদনের পর সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আমন্ত্রণপত্র এবং অনুষ্ঠানের ব্যানারে উপাচার্যের উপস্থিতির কথা উল্লেখ থাকলেও তিনি সেখানে অংশ নেননি।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তবে ডা. এবিএম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস পদ বাতিল এবং সম্প্রতি মারা যাওয়া এক চিকিৎসককে ঘিরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে তারা অপারগতা প্রকাশ করেন।
কর্মকর্তারা জানান, এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে হবে। যদিও সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও উপাচার্য অনুপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সাংবাদিকরা জানতে চান, অতীতে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অনুপস্থিত থাকার নজির নেই। এবার তিনি প্রশ্ন এড়াতেই উপস্থিত হননি কি না। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা কেবল বাজেটসংক্রান্ত বিষয়েই কথা বলবেন।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রেজারার অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৩৯ কোটি ৫৪ লাখ ২৬ হাজার টাকার প্রস্তাবিত পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।
এর মধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৬৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ১৩৬ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ১৬৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাজেটে ১০৫ কোটি ৪৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা ঘাটতি রয়েছে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে তা সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এবারের বাজেটের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আগামীর বাংলাদেশ যেন হয় সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’। বাজেটে চিকিৎসাসেবা, গবেষণা, আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা, ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষ, ই-লার্নিং, ইলেকট্রনিক মেডিকেল রেকর্ড চালু, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহে অতিরিক্ত বরাদ্দকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
মতামত দিন