২৪ ঘণ্টায় ১১ সীমান্ত দিয়ে ১২৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফের
গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সীমান্ত এলাকার অন্তত ১১টি পয়েন্ট দিয়ে ১২৯ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের প্রতিটি চেষ্টাই ব্যর্থ হয়।
এই ঘটনাকে একদিনে পুশইনের সবচেয়ে বড় ও নজিরবিহীন সংগঠিত প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছে বিজিবি।
ঘটনগুলোর বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সবচেয়ে ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে। সেখানে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের একটি গেট খুলে দিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন আটক ব্যক্তিকে একটি ভারতীয় প্রিজন ভ্যানে করে একেবারে জিরো লাইনে নিয়ে আসে। তবে বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে প্রিজন ভ্যানটি পিছু হটতে বাধ্য হয়। একই পয়েন্ট দিয়ে পায়ে হেঁটে আরও ৪-৫ জনকে পুশইনের আরেকটি চেষ্টাও ব্যর্থ করে দেওয়া হয়।
সবচেয়ে মানবিক ও তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের রাধানগর সীমান্তের বঙ্গাবাড়ী এলাকায়। সেখানে রাত ৩টার দিকে বিএসএফের একটি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করার পর ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬টি শিশুসহ মোট ২৮ জন মানুষ বর্তমানে কাঁটাতারের মাঝখানে নো-ম্যানস-ল্যান্ডে আটকা পড়েছেন। এই সংকট নিরসনে বিজিবি ও বিএসএফ কমান্ডারদের মধ্যে দুটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজেই চরম মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা।
অনড়পুর গ্রামের বাসিন্দা ওয়াসিম আকরাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা যদি সত্যিই বাংলাদেশি হতো, তবে রাতের অন্ধকারে কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে এভাবে ঠেলে না পাঠিয়ে সরকারিভাবে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঠানো হতো।’
গোয়েন্দা তথ্যমতে, বিএসএফ আরও পুশইনের জন্য বিভিন্ন সীমান্তে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারতের মালদায় বিএসএফের হেফাজতে ২২ জন এবং আসামের নেত্রকোণা সীমান্তবর্তী একটি উন্মুক্ত (বেড়াহীন) এলাকায় ১৫ থেকে ২০ জনকে জড়ো করার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবিকে না জানিয়েই আটক করেছে বিএসএফ।
বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নেত্রকোণা, সিলেট, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট, খুলনা এবং ঝিনাইদহসহ পুরো সীমান্ত জুড়েই ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিজিবি জানিয়েছে, তারা সীমান্তজুড়ে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে এবং আটকা পড়া ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ফেরত পাঠানো হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে