তিন মাসে সীমান্তপথে ২২৬ জনকে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বিএসএফ: বিজিবি
গত তিন মাসে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ২২৬ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এদের মধ্যে ৮৮ জন বাংলাদেশি, ১১৮ জন ভারতীয় ও ২০ জন মিয়ানমারের নাগরিক বলে জানানো হয়েছে।
বিজিবি–এর রংপুর সেক্টরের আওতাধীন তিনটি ব্যাটালিয়ন—লালমনিরহাটের বিজিবি–১৫, কুড়িগ্রামের বিজিবি–২২ এবং তিস্তার বিজিবি–৬১—এই তথ্য সংগ্রহ করেছে।
বিজিবি–১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, যাচাই–বাছাই শেষে ৮৮ জন বাংলাদেশিকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। ভারতের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ১০০ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মিয়ানমারসহ মোট ৩৮ জনকে সীমান্ত থেকেই ফেরত পাঠানো হয়।
তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে ৪৮ জন, জুনে ১০ জন ও জুলাইয়ে ১০ জনকে অনুপ্রবেশ করানো হয়। তিস্তা এলাকায় বিজিবি–৬১ এর আওতায় মে মাসে ৬৭ জন, জুনে ২৮ জন এবং জুলাইয়ে ৬ জনকে এভাবে পাঠানো হয়। কুড়িগ্রামের বিজিবি–২২ এলাকায় মে মাসে ৫১ জন এবং জুনে ৬ জনকে সীমান্তে ঠেলে পাঠায় বিএসএফ।
স্থানীয়রা জানান, রাতের অন্ধকারে ফ্লাডলাইট নিভিয়ে চুপিচুপি মানুষ পাঠিয়ে দেয় বিএসএফ। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তারা বিজিবিকে সঙ্গে নিয়ে পাহারায় থাকেন।
লালমনিরহাটের দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা জহুরুল ইসলাম বলেন, রাতে বিএসএফ লোক পাঠানোর চেষ্টা করলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে বিজিবিকে খবর দিই।
কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তের বাসিন্দা রহিম উদ্দিন জানান, বিএসএফ সারা রাত ফ্লাডলাইট জ্বালিয়ে রাখে, কিন্তু কাউকে পাঠানোর সময় লাইট নিভিয়ে দেয়—এই সংকেত পেলেই আমরা সতর্ক হই।
বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী বলেন, স্থানীয়দের সহায়তায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদেরও সম্পৃক্ত রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা বারবার বিএসএফকে অনুরোধ করেছি আইনি প্রক্রিয়া মেনে ফেরত পাঠাতে। কিন্তু তারা তা মানছে না। রাতের আঁধারে এভাবে মানুষ পাঠানো মানবিক সংকট তৈরি করছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে