Views Bangladesh Logo

ব্যান্ডউইডথ সংকটের আশঙ্কা নাকচ করল বিএসসিপিএলসি

২০২৭ সাল নাগাদ রাষ্ট্রায়ত্ত সাবমেরিন কেবলগুলোর মোট ব্যান্ডউইডথ সক্ষমতা ৪১ হাজার জিবিপিএসে উন্নীত হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)। কোম্পানিটির দাবি, এই সক্ষমতা দেশের ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পূরণে যথেষ্ট হবে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বিএসসিপিএলসি। সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যান্ডউইডথ ঘাটতি এবং ইন্টারনেটের দাম বাড়ার আশঙ্কাসংক্রান্ত প্রতিবেদনকে ‘বিভ্রান্তিকর’ ও ‘বাস্তবতাবিবর্জিত’ বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে সি-মি-উই-৪ ও সি-মি-উই-৫—এই দুটি সাবমেরিন কেবল ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করছে বিএসসিপিএলসি। ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় আরও একটি সাবমেরিন কেবল ব্যবস্থা সি-মি-উই-৬ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বর্তমানে দুটি সাবমেরিন কেবলের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে। আরও প্রায় ৩ হাজার ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

বিএসসিপিএলসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৭ সালে সি-মি-উই-৬ চালু হলে রাষ্ট্রায়ত্ত সাবমেরিন কেবলগুলোর মোট ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ সক্ষমতা ৪১ হাজার জিবিপিএসে পৌঁছাবে। শুধু সি-মি-উই-৬ থেকেই ৩৪ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালে দেশে ব্যান্ডউইডথের মোট চাহিদা দাঁড়াবে ৩০ হাজার জিবিপিএস। বিএসসিপিএলসির দাবি, এর আগেই ২০২৭ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত সাবমেরিন কেবলগুলোর সক্ষমতা সম্ভাব্য চাহিদার চেয়ে বেশি হবে।

এ ছাড়া দেশের ছয়টি আইটিসি অপারেটরের মাধ্যমেও চাহিদা অনুযায়ী ব্যান্ডউইডথ আমদানি করা হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। চতুর্থ সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার কার্যক্রমও শুরু করেছে বিএসসিপিএলসি।

দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পূরণে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত বলেও দাবি করেছে কোম্পানিটি। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহে বর্তমানে কোনো ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বিএসসিপিএলসি।

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, ব্যান্ডউইডথের মূল্য ধারাবাহিকভাবে কমানোর পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্যাকেজে সেবা দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্যান্ডউইডথের ব্যবহার বাড়লে আরও সাশ্রয়ী মূল্যে তা সরবরাহ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পূরণে নতুন সাবমেরিন কেবলের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বেসরকারি খাতের সাবমেরিন কেবল প্রকল্পে বিনিয়োগকারী দেশীয় উদ্যোক্তাদের কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা ভিন্ন আশঙ্কার কথা জানান। তাঁরা বলেন, নতুন সাবমেরিন কেবল যুক্ত না হলে বাংলাদেশ ব্যান্ডউইডথ সংকটে পড়তে পারে। এর ফলে ইন্টারনেটের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

বেসরকারি উদ্যোগে সাবমেরিন কেবল চালু হলে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলেও মত দেন কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা। সরকারি অনুমোদনের জটিলতায় ‘চূড়ান্ত পর্যায়ে’ এসেও বেসরকারি সাবমেরিন কেবল প্রকল্পের কাজ আটকে আছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।


মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ