ব্রাজিল ১ -নরওয়ে ২
ব্রাজিল-নরওয়ে ফিফা বিশ্বকাপ: লাইভ স্কোর এবং সর্বশেষ অবস্থা
৯০+১১ মিনিট | ম্যাচ শেষ! ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে
রেফারির শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে শেষ হলো দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ এই নকআউট লড়াই। প্রথমার্ধে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা পায়নি। ব্রাজিল একটি পেনাল্টি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়, নরওয়ের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয় এবং দুই গোলরক্ষকই দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করে ম্যাচকে গোলশূন্য রাখেন।
বিরতির পর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আরলিং হালান্ড। ৭৯তম মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর ৯০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে ব্যবধান ২-০ করেন এই তারকা স্ট্রাইকার।
যোগ করা সময়ের ৯০+১০ মিনিটে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ দিলেও শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি ব্রাজিল। ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে নরওয়ে, আর হালান্ডের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই হয়ে উঠেছে ম্যাচের সবচেয়ে বড় পার্থক্য।
৯০+১০ মিনিট | পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেন নেইমার
ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। চরম চাপের সেই মুহূর্তে স্পটকিকে দাঁড়ান নেইমার। অসাধারণ স্থিরতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শট নিয়ে নরওয়ের গোলরক্ষককে ভুল দিকে পাঠিয়ে সহজেই বল জালে জড়ান তিনি। এই গোলে ব্যবধান ২-১ হলেও সময় প্রায় শেষ হয়ে আসায় ম্যাচে ফিরতে ব্রাজিলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
৯০+৬ মিনিট | হলুদ কার্ড দেখলেন নেইমার
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে হতাশা যেন গ্রাস করেছে ব্রাজিলকে। নরওয়ের দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থামাতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় ফাউল করেন নেইমার। এতে কোনো দ্বিধা না করে সঙ্গে সঙ্গেই পকেট থেকে হলুদ কার্ড বের করেন রেফারি। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, আর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা নরওয়ে এখন কেবল শেষ বাঁশির অপেক্ষায়। ব্রাজিলের জন্য ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনাও ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে।
৯০ মিনিট | দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা হলো ৭ মিনিট
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার পর চতুর্থ রেফারি দ্বিতীয়ার্ধে ন্যূনতম ৭ মিনিট অতিরিক্ত সময়ের ঘোষণা দেন। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ব্রাজিলের সামনে এখন শেষ সুযোগ ম্যাচে ফেরার। তাই তারা সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণে ঝাঁপাবে। অন্যদিকে নরওয়ে বলের দখল ধরে রেখে সময় নষ্ট না করে রক্ষণ সামলে এই গুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই শেষ কয়েক মিনিট খেলবে।
৯০ মিনিট | আবার গোল! হালান্ডের জোড়া আঘাতে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নরওয়ে
ব্রাজিল যখন সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে পুরো দল নিয়ে আক্রমণে উঠেছে, ঠিক তখনই পাল্টা আক্রমণে বাজিমাত করলেন আরলিং হালান্ড। বক্সের অনেক বাইরে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সামনে ফাঁকা জায়গা দেখে ডান পায়ে দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শট নেন তিনি। ক্ষেপণাস্ত্রের গতিতে ছুটে যাওয়া বল জালে জড়িয়ে গোলরক্ষককে কোনো সুযোগই দেয়নি। নিজের দ্বিতীয় গোল করে নরওয়েকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিয়ে জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেন এই তারকা স্ট্রাইকার।
৭৯ মিনিট | হালান্ডের গোলে লিডে নরওয়ে
ম্যাচের অচলাবস্থা ভেঙে অবশেষে এগিয়ে গেল নরওয়ে। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের দারুণ এক ক্রস বক্সের মাঝখানে পেয়ে নিখুঁত সময়ে লাফিয়ে ওঠেন আর্লিং হালান্ড। শক্তিশালী হেডে ব্রাজিলের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অধিনায়কের মতো দায়িত্ব নিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দিলেন নরওয়ের এই গোলমেশিন।
৭১ মিনিট | দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের পর খেলা আবার শুরু
দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের পর আবারও মাঠে গড়িয়েছে বল। রেফারির বাঁশির সঙ্গে পুনরায় শুরু হয়েছে ম্যাচের লড়াই। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে নরওয়েও সংগঠিত রক্ষণ ধরে রেখে সুযোগ পেলেই পাল্টা আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা নিয়ে খেলছে। ম্যাচের শেষভাগে উত্তেজনা আরও বাড়ার ইঙ্গিত মিলছে।
৬৮ মিনিট | একসঙ্গে দুই পরিবর্তন, মাঠে নামলেন নেইমার
গোলের খোঁজে বড় কৌশলগত পরিবর্তন এনেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির পরিবর্তে মাঠে নেমেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার, আর রায়ানের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন দানিলো সান্তোস। নেইমার মাঠে নামতেই গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। নতুন দুই খেলোয়াড়কে নিয়ে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত গোল আদায়ের লক্ষ্য ব্রাজিলের।
৫৭ মিনিট | কুনিয়াকে তুলে এনদ্রিককে নামাল ব্রাজিল
গোলশূন্য অচলাবস্থা ভাঙতে আক্রমণভাগে পরিবর্তন এনেছে ব্রাজিল। মাতেউস কুনিয়াকে তুলে মাঠে নামানো হয়েছে তরুণ ফরোয়ার্ড এনদ্রিককে। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে নরওয়ের রক্ষণে আরও চাপ সৃষ্টি করতেই এই কৌশলগত পরিবর্তন করেছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
৫৪ মিনিট | কর্নার পেল ব্রাজিল, বাড়ছে আক্রমণের চাপ
টানা আক্রমণে নরওয়ের রক্ষণভাগকে চাপে ফেলে কর্নারের সুযোগ আদায় করেছে ব্রাজিল। প্রান্ত দিয়ে গড়ে ওঠা আক্রমণ প্রতিহত করতে গিয়ে বল কর্নারের বাইরে পাঠায় নরওয়ের ডিফেন্ডাররা। এবার সেট-পিস থেকে প্রতিপক্ষের বক্সে বিপজ্জনক বল তুলে গোলের সুযোগ তৈরি করতে চাইবে সেলেসাও।
৫২ মিনিট | নরওয়ে দলে একসঙ্গে দুই পরিবর্তন
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কৌশলগত পরিবর্তন এনেছেন নরওয়ের কোচ। আক্রমণভাগে আলেক্সান্ডার সোরলোথ ও আন্তোনিও নুসাকে তুলে মাঠে নামানো হয়েছে অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপকে। ম্যাচে গতি বাড়ানো এবং ব্রাজিলের রক্ষণে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতেই এই জোড়া পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরওয়ে।
৪৬ মিনিট | দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু
বিরতি শেষে আবারও মাঠে নেমেছে ব্রাজিল ও নরওয়ে। রেফারির বাঁশির সঙ্গে শুরু হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই। প্রথম ৪৫ মিনিটে গোলশূন্য থাকলেও দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করেছিল। এবার জয়ের লক্ষ্যে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা সমর্থকদের, কারণ নকআউট ম্যাচে একটি গোলই বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের চিত্র।
৪৫+৬ মিনিট | গোলশূন্যতার হতাশা নিয়ে বিরতিতে ব্রাজিল-নরওয়ে
রেফারির বাঁশির সঙ্গে শেষ হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ প্রথমার্ধ। স্কোরবোর্ডে এখনো কোনো গোল না উঠলেও ম্যাচজুড়ে ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, দারুণ গতি এবং রোমাঞ্চ। নরওয়ের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়েছে, ব্রাজিল পেনাল্টি থেকেও গোল করতে পারেনি। দুই দলের গোলরক্ষকের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে সমতায় থেকেই বিরতিতে গেছে ম্যাচ। দ্বিতীয়ার্ধে গোলের আশায় মাঠে নামবে দুই দলই।
৪৫ মিনিট | প্রথমার্ধে যোগ হলো অতিরক্ত ৬ মিনিট
প্রথমার্ধের নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত ৬ মিনিট যোগ করেন চতুর্থ রেফারি। ফলে বিরতির আগে দুই দলের সামনেই রয়েছে গোল করার আরও একটি সুযোগ। এখন দেখার বিষয়, অতিরিক্ত সময়ের সদ্ব্যবহার করে কোনো দল কি অচলাবস্থা ভেঙে এগিয়ে যেতে পারে, নাকি সমতায় থেকেই বিরতিতে যাবে তারা।
৪০ মিনিট | ভিনিসিয়ুসের নিশ্চিত গোল বাঁচালেন নরওয়ে গোলকিপার
ব্রাজিলকে এগিয়ে নেওয়ার দারুণ এক সুযোগ তৈরি করেছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ডের ভুলে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়েন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তবে ডান পায়ের জোরালো শট পা বাড়িয়ে অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিলান্ড। তার দুর্দান্ত সেভে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত হয় ব্রাজিল।
৩১ মিনিট | ফাউল! বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পেল নরওয়
আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে একটু বেশিই আগ্রাসী হয়ে পড়েন ব্রাজিলের দানিলো। তার ফাউলে খেলা থামিয়ে নরওয়েকে ফ্রি-কিকের বাঁশি দেন রেফারি। দুর্দান্তভাবে বল আড়াল করে ফাউল আদায় করেন আন্তোনিও নুসা। ফলে প্রতিপক্ষের বক্সের কাছাকাছি বিপজ্জনক অবস্থানে সেট-পিসের সুযোগ পায় নরওয়ে।
২৭ মিনিট | ম্যাচের প্রথম হাইড্রেশন ব্রেক
তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত হাইড্রেশন ব্রেক দেন রেফারি। উভয় দলের খেলোয়াড়রা টাচলাইনের পাশে গিয়ে পানিবিরতি নেন। এই সময় কোচরাও খেলোয়াড়দের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ও কৌশলগত পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ পান, এরপর আবার শুরু হবে ম্যাচের লড়াই। ব্রাজিল শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু ব্রুনো গিমারাইস পেনাল্টি মিস করেন। এ ছাড়া ওপেন প্লেতে কোনো দলই এখন পর্যন্ত বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।
১৪ মিনিট | পেনাল্টি রুখে দিলেন গোলরক্ষক, সুবর্ণ সুযোগ হারালো ব্রাজিল
ব্রাজিলকে এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল পেনাল্টি থেকে। স্পটকিকে দাঁড়িয়ে ডান পায়ের শট নেন ব্রুনো গিমারাইস । তবে নরওয়ের গোলরক্ষক দুর্দান্ত অনুমান করে সঠিক দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল ঠেকিয়ে দেন। অসাধারণ সেই সেভে স্কোরলাইন সমতায় রেখে দলকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন তিনি।
৩ মিনিট | অফসাইডে বাতিল নরওয়ের গোল
ম্যাচের প্রথম বড় আক্রমণটি গড়ে তোলেন মার্টিন ওডেগার্ড। দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে এসে তিনি বাম প্রান্তে আলেকজান্ডার সোরলোথের উদ্দেশে নিখুঁত একটি পাস বাড়ান। সোরলোথ বল জালে জড়ালেও সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তোলেন। ফলে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হারায় নরওয়ে।
প্রথম মিনিট | শুরু হলো ব্রাজিল-নরওয়ের মহারণ
রেফারির প্রথম বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ব্রাজিল ও নরওয়ের বহুল প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপের নকআউট লড়াই। একদিকে সাম্বা ফুটবলের কারুকার্য, গতি ও সৃজনশীলতা অন্যদিকে নরওয়ের শক্তি, শৃঙ্খলা ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা। দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের এই মহারণের শুরু থেকেই উত্তেজনাপূর্ণ ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
নিউ জার্সিতে কৌশলের লড়াই, ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচের শুরুর একাদশ ঘোষণা
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বে জমে উঠতে যাচ্ছে আরেকটি হাইভোল্টেজ লড়াই। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে নরওয়ে। ম্যাচকে সামনে রেখে দুই দলের কোচই চূড়ান্ত করেছেন নিজেদের শুরুর একাদশ। দুই দলের দলগঠনেই ফুটে উঠেছে ভিন্নধর্মী কৌশল ও পরিকল্পনার ছাপ।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি বেছে নিয়েছেন ঐতিহ্যবাহী ৪-৪-২ ছক। মাঝমাঠে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আক্রমণভাগকে স্বাধীনতা দেওয়ার লক্ষ্যেই সাজানো হয়েছে দলটি। গোলবারের নিচে থাকছেন অ্যালিসন বেকার। তার সামনে রক্ষণভাগে সেন্টারব্যাকে থাকবেন মারকিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস। দুই প্রান্ত সামলাবেন দানিলো ও ডগলাস সান্তোস।
মাঝমাঠে অভিজ্ঞ কাসেমিরোর সঙ্গে জুটি বাঁধবেন ব্রুনো গিমারায়েস। দুই উইংয়ে থাকছেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ও তরুণ প্রতিভা রায়ান। আক্রমণভাগে জুটি গড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং মাতেউস কুনিয়া। নরওয়ের রক্ষণে চাপ তৈরি করাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য। বেঞ্চে রয়েছেন ব্রাজিলের আরও কয়েকজন তারকা ফুটবলার—নেইমার, রাফিনিয়া এবং উদীয়মান প্রতিভা এন্দ্রিক, যারা প্রয়োজনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
অন্যদিকে নরওয়ের কোচ স্টোলে সোলবাক্কেন নিজের পরিচিত ৪-৩-৩ ফরমেশনেই দল সাজিয়েছেন। আক্রমণাত্মক এই ছকে মূল ভরসা তিন ফরোয়ার্ডের সমন্বয়ে গড়া শক্তিশালী আক্রমণভাগ। গোলরক্ষক হিসেবে থাকছেন ওরইয়ান নিয়ল্যান্ড। রক্ষণভাগে সেন্টারব্যাকে খেলবেন ক্রিস্টোফার আয়ের ও তোরবিয়র্ন হেগেম। দুই পাশে থাকবেন জুলিয়ান রিয়ারসন ও ডেভিড মোলার উলফে।
মাঝমাঠ পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে আর্সেনালের প্লেমেকার মার্টিন ওডেগার্ডের কাঁধে। তাকে সহায়তা করবেন সান্ডার বের্গে ও প্যাট্রিক বের্গ। তবে সবচেয়ে বেশি নজর থাকবে নরওয়ের আক্রমণভাগে। ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড থাকবেন আক্রমণের কেন্দ্রে। তাকে দুই দিক থেকে সমর্থন দেবেন আন্তোনিও নুসা ও আলেকজান্ডার সোরলোথ।
ব্রাজিলের একাদশ (৪-৪-২ ফরমেশন)
অ্যালিসন বেকার (গোলরক্ষক), দানিলো, মারকিনিয়োস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ডগলাস সান্তোস, কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, রায়ান, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাতেউস কুনিয়া।
ব্রাজিলের বেঞ্চ/বিকল্প খেলোয়াড়
নেইমার, রাফিনিয়া, এন্দ্রিক, লুইজ হেনরিক, ইগর থিয়াগো, এদেরসন সিলভা, ফাবিনিয়ো, দানিলো সান্তোস, আলেক্স সান্দ্রো, গ্লেইসন ব্রেমার, লেও পেরেইরা, রজার ইবানিয়েস, ওয়েভারতন ও এদেরসন। কোচ: কার্লো আনচেলত্তি।
নরওয়ের একাদশ (৪-৩-৩ ফরমেশন)
ওরইয়ান নিয়ল্যান্ড (গোলরক্ষক), জুলিয়ান রিয়ারসন, ক্রিস্টোফার আয়ের, তোরবিয়র্ন হেগেম, ডেভিড মোলার উলফে, প্যাট্রিক বের্গ, সান্ডার বের্গে, মার্টিন ওডেগার্ড, আন্তোনিও নুসা, আর্লিং হালান্ড ও আলেকজান্ডার সোরলোথ।
নরওয়ের বেঞ্চ/বিকল্প খেলোয়াড়
ইয়র্গেন স্ট্রান্ড লারসেন, ফ্রেডরিক আউরসনেস, ক্রিস্টিয়ান থরস্টভেড্ট, থেলো আসগার্ড, আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ, অস্কার বব, ইয়েন্স পেটার হাউগে, মর্টেন থর্সবি, লিও অস্টিগার্ড, ফ্রেডরিক আন্দ্রে বিয়োরকান, সন্ড্রে লাঙ্গোস, হেনরিক ফালখেনার, সান্ডার টাংভিক ও এগিল সেলভিক। কোচ: স্টোলে সোলবাক্কেন।
ব্রাজিল-নরওয়ে মহারণ: ইতিহাস বদলাতে মরিয়া সেলেসাও
বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোর অন্যতম হাইভোল্টেজ লড়াই আজ মাঠে গড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সোমবার (৬ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় শুরু হবে ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ, যা বাংলাদেশ সময় রোববার দিবাগত রাত ২টায় সম্প্রচারিত হবে। জয়ী দল আগামী ১১ জুলাই মায়ামিতে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো অথবা ইংল্যান্ডের।
নরওয়ের বিপক্ষে জয়হীন ব্রাজিলের ইতিহাস
পরিসংখ্যান পুরোপুরি নরওয়ের পক্ষে কথা বলছে। দুই দলের আগের চার সাক্ষাতের কোনোটিতেই হারেনি নরওয়ে; দুটি জয় ও দুটি ড্র রয়েছে তাদের। এর মধ্যে একমাত্র বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ২-১ গোলে জিতেছিল নরওয়েজিয়ানরা। সবচেয়ে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎ ছিল ২০০৬ সালে এক প্রীতি ম্যাচে, যা ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। উদ্বেগের আরেকটি কারণ, ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গত ছয়টি নকআউট ম্যাচের প্রতিটিতেই বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল, সবশেষ ২০০২ সালের ফাইনালে জার্মানিকে হারানোর পর থেকে।
কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ষোলোয় দুই দল
গ্রুপ সি-তে স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে জিতে এবং মরক্কোর সঙ্গে ড্র করে শীর্ষে থেকে নকআউট পর্বে ওঠে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। রাউন্ড অব ৩২-এ জাপানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ গোলে জিতে তারা, ইনজুরি সময়ের ৯৫তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি।
অন্যদিকে গ্রুপ আই-তে দ্বিতীয় হয়ে নকআউটে ওঠে নরওয়ে, যেখানে তারা ইরাক ও সেনেগালকে হারালেও ফ্রান্সের কাছে হেরেছিল। রাউন্ড অব ৩২-এ আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ৮৬তম মিনিটে আর্লিং হালান্ডের জয়সূচক গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে নরওয়ে তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায়—এর আগে ১৯৩৮ ও ১৯৯৮ সালে নকআউট পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা।
ভিনিসিয়াস বনাম হালান্ড: তারকাদের লড়াই
এই ম্যাচের মূল আকর্ষণ দুই বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডের দ্বৈরথ। রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়াস জুনিয়র এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে চার গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড়। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করে তিনি হয়ে উঠেছেন ২০০২ সালের পর রোনালদো ও রিভালদোর পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান, যিনি এই কীর্তি গড়লেন—উল্লেখ্য, সেবারই সবশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। অন্যদিকে নরওয়ের আর্লিং হালান্ড নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করে দলের মোট গোলের অর্ধেকের জোগানদাতা। ম্যানচেস্টার সিটির এই ২৫ বছর বয়সী স্ট্রাইকারের শারীরিক শক্তি ও বক্সের ভেতরের দক্ষতা ব্রাজিলের রক্ষণের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইনজুরি সমস্যায় জর্জরিত ব্রাজিল মিডফিল্ড
জাপান ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। একই ধরনের চোটে ভুগছেন রাফিনিয়াও, যদিও তিনি একক অনুশীলনে ফিরেছেন এবং বেঞ্চে জায়গা পেতে পারেন। পাকেতার অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠে বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে এডারসন ও ফাবিনিওকে, যা দলের আক্রমণ তৈরির সক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া ম্যাথেউস কুনিয়ার নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের পর এন্ড্রিক কিংবা ইগর থিয়াগোকে শুরুর একাদশে দেখার দাবি জোরালো হচ্ছে। নরওয়ে শিবিরেও দুশ্চিন্তা আছে—উরুর চোটের কারণে ছিটকে গেছেন জুলিয়ান রাইয়ারসন।
পরিসংখ্যানে এগিয়ে ব্রাজিল, তবে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি
বুকমেকারদের হিসাবে নব্বই মিনিটের নিয়মিত সময়ে ব্রাজিলকে হালকা ফেভারিট ধরা হচ্ছে। অপ্টার পরিসংখ্যানগত মডেল অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা প্রায় সাড়ে ৫৩ শতাংশ, নরওয়ের ক্ষেত্রে তা সাড়ে ২২ শতাংশের মতো, আর অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ২৪ শতাংশ। সাম্প্রতিক ফর্ম বলছে, দুই দলের সবশেষ কয়েকটি ম্যাচেই দুই দলই গোল পেয়েছে এবং প্রতিটিতে আড়াইয়ের বেশি গোল হয়েছে; যা ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক সামর্থ্য ও রক্ষণের দুর্বলতা, এবং নরওয়ের আক্রমণনির্ভর খেলার ধরনেরই প্রতিফলন।
কোয়ার্টার ফাইনালের হাতছানি
টানা অষ্টমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে আজ মাঠে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। অন্যদিকে নরওয়ের সামনে সুযোগ ইতিহাস গড়ার; দলটি এর আগে কখনও বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠতে পারেনি। হালান্ড-ওডেগার্ড জুটিকে থামিয়ে ব্রাজিল যদি নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারে, তবে নরওয়ের বিপক্ষে জয়হীন থাকার পুরোনো রেকর্ড ভেঙে সেলেসাওরা এগিয়ে যাবে পরের রাউন্ডে। আর যদি হালান্ডের বুট আরেকবার জ্বলে ওঠে, তাহলে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখবে নরওয়ে।
মতামত দিন