ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু ব্রাজিলের
মাঠের ফুটবল যে কেবল ইতিহাস কিংবা শক্তিমত্তার সমীকরণ মেনে চলে না, তার আরও একটি প্রমাণ মিলল বিশ্বমঞ্চে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়েছিল আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। তবে টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোল ব্যবধানে অমিমাংসিতভাবেই শেষ হয়েছে। ড্রয়ের মধ্য দিয়ে আসরে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করল দুই দল।
নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচেই মাঠে নেমে বড়সড় ধাক্কা খায় সেলেসাওরা। ম্যাচের ২১তম মিনিটেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে তারা। তবে ভিনিসিয়ূস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক সমতাসূচক গোলে ১-১ ব্যবধানে থেকেই বিরতিতে যাওয়ার স্বস্তি পায় ব্রাজিল।
পোস্টার বয় নেইমারকে ছাড়াই এদিন মরক্কোর বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল সেলেসাওরা। চোট কাতিয়ে ওঠা নেইমারের অনুপস্থিতিতে ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ ছন্নছাড়া মনে হয়েছে কার্লো আনচেলোত্তির শিষ্যদের। সেই তুলনায় শুরু থেকেই বেশ গোছানো ও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিতে থাকে মরক্কো। ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই গোল উদযাপনের উপলক্ষ পেয়ে যেতে পারত আফ্রিকার দেশটি। বাম প্রান্ত থেকে ছোট ছোট নিখুঁত পাসের ওপর ভর করে ব্রাজিলের রক্ষণভাগে হানা দেয় তারা। দলের তরুণ মিডফিল্ডার বেনজামিন এল আইনুই ব্রাজিলের ডি-বক্সে বল পেয়ে পোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত এক স্লাইডে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস।
মরক্কোর শুরুর এই দাপুটে ফুটবল সামলে নিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকে ব্রাজিল। সেলেসাওদের একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মরক্কোর ডি-বক্সে দারুণ এক সুযোগও তৈরি হয়েছিল। সতীর্থের বাড়ানো লফটেড পাসে বেশ ভালো পজিশনে বল পেয়ে যান ইগর থিয়াগো। সময়মতো লাফিয়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত বলের সাথে ঠিকঠাক সংযোগ ঘটাতে ব্যর্থ হন এই স্ট্রাইকার।
ব্রাজিল যখন কেবল নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় মগ্ন, ঠিক তখনই ম্যাচের ২১তম মিনিটে মেটলাইফ স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেয় মরক্কো। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ব্রাহিম দিয়াজের বাড়ানো চমৎকার এক পাসে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্রাজিলের জাল কাঁপান মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমায়েল সাইবারি। তার এই গোলেই লিড নেয় দলটি।
অবশ্য গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফিরতে খুব একটা বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি সেলেসাওদের। ঠিক ১১ মিনিট পরেই একক নৈপুণ্যে দলকে ম্যাচে ফেরান রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম সেরা তারকা ভিনিসিয়ূস জুনিয়র। ম্যাচের ৩২তম মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে বল পেয়ে মরক্কোর এক ডিফেন্ডারকে দারুণ ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর এক বুলেট গতির শটে বল জালে জড়ান ভিনি। মরক্কোর অতন্দ্র প্রহরী ও অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ঝাঁপিয়েও সেই গতির শট রুখতে পারেননি। ব্রাজিলের বিখ্যাত হলুদ জার্সিতে এটি ভিনিসিউসের ৫০তম আন্তর্জাতিক গোল।
১-১ গোলের সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্থের খেলা শুরু হয়। বিরতির পর দুই দলই নিজেদের রক্ষণভাগ সামলে রেখে বেশ কিছু আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি কেউই। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয় কার্লো আনচেলোত্তির ব্রাজিল ও মরক্কোকে।

মতামত দিন