কুনিয়া-ভিনিসিয়ুসের নৈপুণ্যে হাইতিকে হারাল ব্রাজিল
মরক্কোর বিপক্ষে হতাশাজনক ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে থাকা ব্রাজিল দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গ্রুপ ‘সি’-তে ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ডে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলে সেলেসাওরা, আর দ্বিতীয়ার্ধে নিয়ন্ত্রিত ফুটবলে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।
ম্যাচের শুরুতে হাইতি রক্ষণে বেশ সংগঠিত ছিল। ১২ মিনিটে রাফিনিহা বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। ২১ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও ব্যবধান গড়তে পারেননি তিনি, তার চিপ করা শট অল্পের জন্য পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।
তবে ২৩ মিনিটে অপেক্ষার অবসান ঘটে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের শট হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিদ ঠেকালেও ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে আলতো টোকায় জালে বল জড়ান মাতেউস কুনিয়া। এতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
প্রথম গোলের পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ৩৬ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের চমৎকার পাস ধরে কঠিন কোণ থেকে দুর্দান্ত নিচু শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কুনিয়া। হাইতির গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না সেই শট ঠেকানোর।
তবে প্রথমার্ধে ব্রাজিলের জন্য একটি দুশ্চিন্তার খবরও আসে। ৩৯ মিনিটে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন রাফিনিহা। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ায় ব্রাজিল। ৪৫+৩ মিনিটে লুকাস পাকেতার নিখুঁত থ্রু পাস থেকে বল পেয়ে গোল করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রথম দুই গোলে অবদান রাখার পর নিজেও গোল করে দলের ৩-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল না হলেও ম্যাচে উত্তেজনার কমতি ছিল না। বদলি হিসেবে নামা এন্দ্রিক বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে তার গোল বাতিল হয়। পরে ভিনিসিয়ুসের তৈরি করা সুযোগ থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
হাইতিও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল। ৬৪ মিনিটে কর্নার থেকে আসা এক হেডে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও আলিসনের দুর্দান্ত সেভ এবং পরে দানিলোর গোললাইন ক্লিয়ারেন্সে বিপদ কাটায় ব্রাজিল।
৬৩ মিনিটে কুনিয়া ও পাকেতাকে তুলে এন্দ্রিক ও মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলেও স্বস্তির জয় এবং ক্লিনশিট নিয়েই মাঠ ছাড়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যানেও দেখা যায় দুই দলের মধ্যে লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। বলের দখলে ব্রাজিল এগিয়ে ছিল ৫৭ শতাংশে, হাইতির ছিল ৪৩ শতাংশ। মোট শটে ব্রাজিল এগিয়ে ৯-৮ ব্যবধানে, যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ব্রাজিলের ৫টি ও হাইতির ৪টি শট। কর্নার পেয়েছে দুই দলই ৪টি করে। হলুদ কার্ডের হিসেবে ব্রাজিল একটি এবং হাইতি তিনটি কার্ড দেখেছে।
এই জয়ে গ্রুপ ‘সি’-তে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে ব্রাজিল। একই দিনে মরক্কো ১-০ গোলে স্কটল্যান্ডকে হারানোয় গ্রুপের লড়াই আরও জমে উঠেছে। তবে জয়ের আনন্দের মাঝেও রাফিনিহার চোটের অবস্থা নিয়ে কিছুটা চিন্তায় থাকবে ব্রাজিল শিবির।
ম্যাচসেরা: মাতেউস কুনিয়া (২ গোল)
মতামত দিন