‘অশ্লীলতা থাকবে না’ শর্তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে কনসার্ট বিষয়ে সমঝোতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণকে ঘিরে কনসার্ট আয়োজন নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের অবসান হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।
শনিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদের আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে ৭-৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এবং কলেজসংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নবীনবরণ ও আলোচনা সভা কলেজের মূল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে। কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেনও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
তবে বৈঠকের পর কওমী ছাত্র ঐক্য পরিষদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফেসবুক পেজে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ মাঠে কোনো ধরনের কনসার্ট হবে না, শুধু নবীনবরণ অনুষ্ঠান হবে’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে দাবি করা হয়, সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও কর্তৃপক্ষ কনসার্ট স্থগিতের দাবি মেনে নিয়েছে। নবীনবরণ, বৃক্ষরোপণসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালু থাকবে বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে আব্দুল খালেক বলেন, সরকারি কলেজের মাঠে কোনো কনসার্ট বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না করার বিষয়ে তারা সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অশ্লীলতা হবে না’—এই শর্তে ভেতরের মাঠে অনুষ্ঠান করার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, কলেজের লোকজন ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা করে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে। সেখানে সাংস্কৃতিক বা গানের অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ফলে নবীনবরণকে কেন্দ্র করে কনসার্ট আয়োজন নিয়ে কয়েক দিনের বিরোধ আপাতত মিটেছে। তবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কোথায় এবং কীভাবে হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্নতা থাকলেও ‘অশ্লীলতা থাকবে না’—এমন শর্তে অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মতামত দিন