বিপিএল ফিক্সিং: কোনো ক্রিকেটারকে বাদ দিতে বলেননি তদন্ত প্রধান
ফিক্সিংয়ের সন্দেহে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ আসরের নিলাম তালিকা থেকে বাদ পড়া এনামুল হক বিজয়সহ নয় ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিপিএলের স্পট ফিক্সিং তদন্তে গঠিত স্বাধীন কমিটির প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল। তিনি জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে ওই ক্রিকেটারদের নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, তবে তাদের কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার সুপারিশ করা হয়নি।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যালেক্স মার্শাল বলেন, তদন্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাধীন ও গোপনীয়ভাবে পরিচালিত হয়েছে। কাকে তদন্ত করা হবে বা কীভাবে তদন্ত করা হবে—এ বিষয়ে বাইরে থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন বিসিবির জেনারেল কাউন্সেলের কাছে পাঠানো হয়। এরপর অভিযোগ দায়ের করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলেই সরাসরি তদন্ত শুরু করা হয় না। প্রথমে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা হয়। কোনো ক্রিকেটারকে খারাপ খেলার বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য, সতীর্থ, কোচ, ম্যানেজার, সাংবাদিক কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্ত শুরুর ভিত্তি হতে পারে।
তবে শুধু একটি দলের অস্বাভাবিক পারফরম্যান্সের কারণে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান মার্শাল। তার ভাষ্য, কোনো দল ৫০ রানে অলআউট হলেই সেটিকে দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। একাধিক নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে এবং অ্যান্টি-করাপশন কোড লঙ্ঘনের সম্ভাবনা থাকলেই তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়।
তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া, সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পরীক্ষা করা হয়। তদন্তে সাধারণত তিন ধরনের ফল পাওয়া যেতে পারে। শক্তিশালী প্রমাণ মিললে অভিযুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। কিছু সন্দেহজনক তথ্য থাকলেও অভিযোগ আনার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আর কোনো প্রমাণ না মিললে বা ভুল পরিচয়ের কারণে অভিযোগ উঠলে তদন্ত বন্ধ করে দায়মুক্ত করা হয়।
বিপিএলের দ্বাদশ আসরের নিলাম থেকে বাদ পড়া নয় ক্রিকেটারের প্রসঙ্গে অ্যালেক্স মার্শাল বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলকে সতর্ক করা হয়েছিল যে কিছু ব্যক্তি টুর্নামেন্টের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন। সে কারণে তাদের বিপিএল-১২-তে আমন্ত্রণ না জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি নিজে নয়জন ক্রিকেটারকে আলাদাভাবে বাছাই করেননি। প্রতিবেদনে নয়জনের চেয়েও বেশি ব্যক্তির নাম ছিল এবং তাদের মধ্যে যারা বিপিএল-১২-তে খেলার সুযোগ পেতে পারতেন, তাদের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল।
বিপিএলের পরবর্তী আসরে ওই ক্রিকেটাররা খেলতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্তপ্রধান বলেন, তাদের ক্রিকেট খেলার ওপর বর্তমানে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বিপিএল-১২-এর আগে নির্দিষ্ট ওই আসরের জন্য তাদের আমন্ত্রণ না জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু ওই ক্রিকেটারদের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত হননি, তাই ক্রিকেট খেলতে তাদের কোনো বাধা নেই।
এদিকে বিসিবি জানিয়েছিল, বিপিএলের স্পট ফিক্সিং নিয়ে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনকে ভিত্তি করেই নয় ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে আগে জানানো হয়েছিল। তবে তদন্ত কমিটির প্রধানের সর্বশেষ বক্তব্যে স্পষ্ট হলো, প্রতিবেদনে তাদের নিষিদ্ধ করার সুপারিশ ছিল না।
মতামত দিন