মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বৈদেশ’
দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’। অভিবাসন, দেশান্তর, স্বপ্ন, সংগ্রাম, আত্মপরিচয়ের সংকট, বিচ্ছেদ এবং নতুন জীবনের সন্ধানে মানুষের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই উৎসবের অফিসিয়াল সিলেকশনে স্থান পেয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বৈদেশ’।
সম্প্রতি উৎসব কর্তৃপক্ষ অফিসিয়াল সিলেকশন তালিকা প্রকাশ করেছে। দেশ-বিদেশ থেকে জমা পড়া অসংখ্য চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে মোট ২৩টি চলচ্চিত্র নির্বাচিত হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল ক্যাটাগরিতে রয়েছে ১৩টি এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্যাটাগরিতে ১০টি চলচ্চিত্র। নির্বাচিত এসব চলচ্চিত্র থেকেই বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
‘বৈদেশ’-এর পরিচালক ইভান মনোয়ার এবং ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সাব্বির আহমেদ শ্রাবণ। নির্মাতা ও কলাকুশলীদের মতে, দেশের প্রথম মাইগ্রেশনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির অন্তর্ভুক্তি তাদের সৃজনশীল প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
আগামী ২৯ জুলাই রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব। এতে অফিসিয়াল সিলেকশনে থাকা দেশি-বিদেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি নির্মাতাদের উপস্থিতিতে দর্শক-নির্মাতা মতবিনিময়, আলোচনা এবং চলচ্চিত্রভিত্তিক নানা আয়োজন থাকবে।
পরিচালক ইভান মনোয়ার বলেন, অফিসিয়াল সিলেকশনে স্থান পাওয়া পুরো টিমের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। আন্তর্জাতিক মানের এমন একটি আয়োজনে নিজেদের কাজ প্রদর্শনের সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সাব্বির আহমেদ শ্রাবণ বলেন, অভিবাসন শুধু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার গল্প নয়; এটি মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি, ভালোবাসা, ত্যাগ ও আত্মপরিচয়ের গল্প। ‘বৈদেশ’ সেই মানবিক অনুভূতিগুলোই চলচ্চিত্রের ভাষায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। দেশের প্রথম মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অফিসিয়াল সিলেকশনে স্থান পাওয়া আমাদের পুরো টিমের জন্য বড় সম্মানের।
উৎসব আয়োজকদের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিবাসনের বাস্তবতা ভিন্ন হলেও মানুষের স্বপ্ন, সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা, প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বেদনা এবং নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার আকাঙ্ক্ষা একই মানবিক বন্ধনে আবদ্ধ। সেই বাস্তবতাকে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বদর্শকের সামনে তুলে ধরাই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য।
‘বৈদেশ’ চলচ্চিত্রের টিম চলচ্চিত্রপ্রেমী, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী ও দর্শকদের উৎসবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক বিষয় নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র দর্শকদের নতুনভাবে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে এবং সমসাময়িক বাস্তবতা নিয়ে আরও বিস্তৃত আলোচনার পথ তৈরি করবে।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, ‘মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’ শুধু একটি চলচ্চিত্র উৎসব নয়; এটি অভিবাসনের বহুমাত্রিক বাস্তবতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং শিল্পচর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে নতুনভাবে তুলে ধরতে এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মতামত দিন