কারা হেফাজতে বগুড়ার আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের
নওগাঁয় কারা হেফাজতে থাকা বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা জাকির হোসেন নবাবের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলা ও মানসিক নির্যাতনের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজন ও দলীয় নেতারা। তাঁদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
৫৮ বছর বয়সী জাকির হোসেন নবাব বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত বছরের ২০ জুন রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে করা একটি মামলায় তিনি নওগাঁ কারাগারে বন্দি ছিলেন।
এ বিষয়ে নওগাঁ কারাগারের সুপার রত্না রায়ের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
নওগাঁ কারাগারের জেলার মো. শাহরিয়ার আলম চৌধুরী ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘আজ সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটে কারাগারে জাকির হোসেন নবাব অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হার্ট অ্যাটাকে তাঁর মৃত্যু হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাঁকে (জাকির হোসেন নবাব) তো আমরা চিনিও না। বগুড়ার লোক নওগাঁর কারাগারে ছিলেন। তাঁকে নির্যাতন করার অভিযোগ সঠিক নয়। তাঁর স্বজনরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলতেই পারেন, তবে সেসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বগুড়ার কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, জাকির হোসেন নবাবকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করা হতো বলে তাঁরা শুনেছেন। তাঁর পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তাঁরা এ তথ্য পেয়েছেন।
জাকির হোসেন নবাবের ছেলে ফাহাদ মুঠোফোনে ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমার বাবার ব্লাড প্রেসারসহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা ছিল। কারা হেফাজতে বাবার উন্নত চিকিৎসা হচ্ছিল না। আমরা অনেকবার কারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু তারা উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি। এমনকি জেলে বাবাকে নিয়মিত ওষুধ খেতেও বাধা দেওয়া হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ছাড়া বাবাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। মূলত বাবাকে মানসিকভাবে বেশি নির্যাতন করা হতো। এসব কারণেই আমার বাবা স্ট্রোক করে মারা গেছেন।’
মতামত দিন