কক্সবাজারে অপহরণের চার ঘণ্টা পর ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসান নামে এক ছাত্রদল নেতাকে অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালী কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জিসান চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের লোটনী এলাকার বাসিন্দা। তিনি কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে লোটনী এলাকায় সাবের সওদাগরের দোকানের সামনে থেকে কয়েকজন ব্যক্তি সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে করে জিসানকে তুলে নিয়ে যায়। এর প্রায় চার ঘণ্টা পর মহাসড়কের পাশে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, অপহরণের পর জিসানকে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ মহাসড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের।
এদিকে জিসানের বড় ভাই কায়সারের সঙ্গে কবির টাওয়ারের মালিক জকরিয়ার ছোট ভাই মিজানের কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কায়সারের দাবি, জিসান অপহরণের প্রায় দুই ঘণ্টা আগে তাঁদের মধ্যে ওই কথোপকথন হয়।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে মিজানকে বলতে শোনা যায়, আমরা অপারগ হয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এজাহার লিখেছি। কালকে দিনের মধ্যে আপনার ভাইকে (জিসানকে) নিয়ে যদি সমাধানে না বসেন, তাহলে আমি আমার মতো সমাধানের রাস্তা খুঁজে নেব। আপনার ভাইকে খুঁজতে ৫০ জন রেডি আছে।
কথোপকথনে জিসানকে নিয়ে আরও কিছু বক্তব্য রয়েছে। তবে অডিওটি মিজানের কিনা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চকরিয়া থানার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় লোক সবুজবাগ আবাসিক এলাকার কবির টাওয়ারের পার্কিংয়ে সাদা রঙের একটি এক্স-নোহা গাড়ি শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাইলে বাড়ির মালিক জকরিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ফুটেজ দেখানো সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, জিসানকে কেন অপহরণ করা হয়েছিল এবং তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
মতামত দিন