একমাত্র সন্তান হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা-মা, লাশও মেলেনি
পরিবারের হাল ধরতে প্রবাসে পাড়ি দিয়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ আবু ফাহিম। কিন্তু স্বপ্নের সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় মর্মান্তিক ট্র্যাজেডিতে—উত্তাল সাগরে প্রাণ হারান তিনি, আর তার মরদেহটুকুও ফিরে পাননি বাবা-মা।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। স্বপ্নের ইউরোপে পৌঁছানো আর হলো না তার—মাঝপথেই থেমে গেল জীবনের গল্প।
মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন ফাহিম। ফেসবুকে দেওয়া শেষ পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘বোকা-সোকা আম্মুটাই দিনশেষে আমার জন্য কাঁদে, মন খারাপ করে, মন ভরে দোয়া করে!’
পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিওতে মানিব্যাগে রাখা মায়ের ছবি দেখিয়ে তিনি জানান, দেশে থাকতে এক গ্লাস পানিও নিজের হাতে খাননি, অথচ প্রবাসজীবনে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। কথাগুলো যেন অজান্তেই হয়ে ওঠে তার বিদায়ের বার্তা।
ফাহিমের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার কবির নগর গ্রামে। তিনি ফয়েজ উদ্দিন ও হেলেনা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে কিছুদিন আগে লিবিয়ায় যান তিনি। সেখান থেকে ইউরোপে প্রবেশের আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথে যাত্রা শুরু করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশীর সঙ্গে একটি নৌকায় করে লিবিয়া থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ফাহিম। কিন্তু মাঝপথে পথভ্রষ্ট হয়ে উত্তাল ঢেউ ও বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে নৌকাটি টানা ছয় দিন সাগরে ভাসতে থাকে। এ সময় সুপেয় পানি ও খাবারের অভাবে নিভে যায় তার জীবনের প্রদীপ।
একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তার মা-বাবা। সন্তানের মরদেহটুকুও ফিরে পাননি তারা। আহাজারি করতে করতে মা হেলেনা বেগম বলেন, আমার বুকের ধনকে আমি আর ফিরে পাব না, আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেল।
ছেলের মৃত্যুর খবরের পর থেকেই ফাহিমের বাবা ফয়েজ উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, এ ধরনের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনযাত্রা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে