মেঘনায় কচুরিপানা সরাতেই মিলল নারী-পুরুষের মরদেহ
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর রমজানবেগ এলাকায় মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। রোববার দুপুরে কচুরিপানার সঙ্গে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজনের দাবি, একই জায়গায় পাশাপাশি তিনটি মরদেহ ভাসতে দেখা গিয়েছিল। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত দুটি মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছে। তৃতীয় মরদেহটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রোববার সকালে নদীর তীরে কচুরিপানার একটি বড় জটলা থেকে উৎকট গন্ধ বের হচ্ছিল। পরে কচুরিপানা সরিয়ে তাঁরা পাশাপাশি তিনটি মরদেহ দেখতে পান। তাঁদের মধ্যে দুটি পুরুষের এবং একটি নারীর মরদেহ বলে ধারণা করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
চর রমজানবেগ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে তিনি মেঘনা নদীর পাড়ে যান। সেখানে কচুরিপানার সঙ্গে কয়েকটি মরদেহ ভাসতে দেখে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের নৌ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন, গজারিয়া নৌ পুলিশের পরিদর্শক সরজিৎ কুমার ঘোষসহ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা কচুরিপানার জটলার মধ্যে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে একটি পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ওই স্থান থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে আরেকটি নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয়রা যে তৃতীয় মরদেহটির কথা জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও সেটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার করা মরদেহ দুটির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মরদেহ দুটি পাঁচ থেকে সাত দিন আগের হতে পারে। নারীটির হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। অন্যদিকে পুরুষের মরদেহে হাত-পা বাঁধা বা এ ধরনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। নারীর হাত-পা বাঁধা থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে মরদেহগুলোর পরিচয় ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ শনাক্ত হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সকাল ১১টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে নদীতে মরদেহ ভেসে থাকার খবর পাওয়া যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় লোকজন আরও একটি মরদেহ ভেসে থাকার কথা জানিয়েছেন। সেটি এখনো পাওয়া যায়নি। উদ্ধার করা মরদেহ দুটি পাঁচ থেকে সাত দিন আগের হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এগুলো স্থানীয় কোনো ব্যক্তির মরদেহ বলে আপাতত মনে হচ্ছে না বলেও জানান তিনি।
ঘটনাস্থলের কাছেই নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দা নিজামউদ্দিন বলেন, একই জায়গায় এভাবে একসঙ্গে তিনটি মরদেহ ভেসে ওঠার ঘটনা তাঁরা আগে দেখেননি। নদীর স্রোতে তৃতীয় মরদেহটি অন্যদিকে ভেসে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। জানান, তিনজনকে হত্যা করে মরদেহ এখানে ফেলে দেওয়া হয়েছে, নাকি অন্য কোনো এলাকা থেকে নদীর স্রোতে মরদেহগুলো ভেসে এসেছে—তা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা নারী ও পুরুষের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে। এ কাজে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা সহায়তা করছেন। একই সঙ্গে মেঘনা নদীর ওই অংশে আরও কোনো মরদেহ ভেসে আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহ দুটির ময়নাতদন্ত ও পরিচয় শনাক্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মতামত দিন