Views Bangladesh Logo

তৌহিদী জনতার বাধা পেরিয়ে সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ, জড়ো হাজারো মানুষ

সিলেটের বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে তৌহিদী জনতার পক্ষ থেকে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে প্রচারণার পরও অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ৩০তম নৌকাবাইচ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) আয়োজিত এই নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে জড়ো হন হাজারো মানুষ। নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় নদীর দুই পাড়।

উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও এ নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট তৌহিদী জনতার ব্যানারে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে প্রচারণা চালানো হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও বিশিষ্টজনদের উদ্যোগে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নৌকাবাইচ আয়োজনের পথ তৈরি হয়।

নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে প্রচারণা চালানো মাসুম বিন নুর উদ্দিন জানিয়েছিলেন, স্থানীয় মুরব্বি, মাওলানা ও ব্যবসায়ীদের অনুরোধে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টারটি প্রকাশ করেছিলেন। পরে স্থানীয়দের অনুরোধে সেটি সরিয়ে নেন। তার দাবি ছিল, সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ হলে কৃষকদের ফসলহানি এবং নদীপাড়ের বাসিন্দাদের ভাঙনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবির সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতির কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

অন্যদিকে নৌকাবাইচের অন্যতম উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, নৌকাবাইচ আবহমান বাংলার সংস্কৃতির অংশ। এর সঙ্গে ধর্মীয় কোনো বিধিনিষেধ নেই। অতীতেও তারা শান্তিপূর্ণভাবে এ আয়োজন করেছেন এবং স্থানীয় মানুষ এতে অংশ নিয়ে আনন্দ উপভোগ করেছেন।

নৌকাবাইচ আয়োজনের পক্ষের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। দুই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সোনাই নদীর দুই তীরে এসে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন।

লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকার বাসিন্দা সেলিম উদ্দিন বলেন, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারা নৌকাবাইচ আয়োজন করেছেন। সবার সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।

সাবেক চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন বলেন, বাংলার ঐতিহ্য উপভোগ করতে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, স্থানীয় মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে এ আয়োজন উপভোগ করতে চান।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌকাবাইচ দেখতে দুই জেলার মানুষ সোনাই নদীর দুই তীরে জড়ো হয়েছেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় আয়োজনটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করেন তিনি।

তৌহিদী জনতার পক্ষ থেকে নৌকাবাইচ বন্ধের প্রচারণাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনার পর শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ। উৎসবকে কেন্দ্র করে নদীর দুই পাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ