‘ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’ বলা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ
ভোলার লালমোহন উপজেলায় ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত আটটার দিকে লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদবাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
আহতদের লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোলা জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রায়চাঁদবাজারসংলগ্ন নির্মাণাধীন সড়কে উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।
খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষে অংশ নেওয়া একপক্ষ নৌবাহিনীর একটি গাড়িতে হামলার চেষ্টা করে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে ৯ থেকে ১০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে রাত ৯টার দিকে লালমোহন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত-সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টির (বিডিপি) মহাসচিব নিজামুল হক। সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির আবদুল হক, সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল আমিনসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিজামুল হক অভিযোগ করেন, রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদবাজার এলাকায় জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি বৈঠক শেষে এক নারী নেত্রীকে বিএনপি কর্মী রুবেল লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি কেন্দ্র করেই পরে উত্তেজনা বাড়ে।
তিনি দাবি করেন, সন্ধ্যায় তিনি ৩০–৪০ জন নেতাকর্মী নিয়ে জামায়াত কার্যালয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির দুই শতাধিক কর্মী পেছন থেকে হামলা চালান। এতে সংঘর্ষ শুরু হয়। তার দাবি, সংঘর্ষে জামায়াতের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল বলেন, জামায়াত নেতারা ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশত পাওয়া যাবে’—এমন বক্তব্য দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছিলেন, যা থেকেই মূলত উত্তেজনার সূত্রপাত।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করেন। পরে পুনরায় সংঘর্ষে বিএনপির ১৫–১৬ জন নেতাকর্মী আহত হন। তার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগকে তিনি ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানান বিএনপির এই নেতা।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল ইসলাম বলেন, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে বাগবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতকে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে’—এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বলে আমরা শুনেছি, তবে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। দুই পক্ষই বাজার এলাকায় লোকজন জড়ো করে। রাস্তা সংস্কারের জন্য রাখা ইট একে অপরের দিকে ছোড়া হয়। এতে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন।
এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি এবং ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানান ওসি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে