মুরগির বিষ্ঠার ভাগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৬
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় মুরগির বিষ্ঠার ভাগ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার চারজন ও বৃহস্পতিবার ভোরে আরও দুজন — মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, কাহালগাঁও বাজারের পাশে সিপি বাংলাদেশ কোম্পানিতে দীর্ঘদিন ধরে লেয়ার মুরগি লালন-পালন করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ আমলে তাদের নেতাকর্মীরা, পরে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিনামূল্যে ওই বিষ্ঠা নিয়ে বিক্রি করতেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন জয়লাভ করার পর থেকে বিষ্ঠার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
কোম্পানির ব্যবস্থাপক সাদিকুর রহমান জানান, প্রতি দেড় মাসে ছয়টি শেড থেকে প্রায় আট লাখ টাকার বিষ্ঠা উৎপাদন হয়, যা মাছের খাবারসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। সংসদ সদস্য কামরুল হাসান মিলন সম্প্রতি তাকে ফোন করে বিষ্ঠা জামায়াত নেতাকর্মীদের দিতে বলেন বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে দুই শতাধিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী সিপি বাংলাদেশ কোম্পানি থেকে দুই ট্রাক বিষ্ঠা নিয়ে যায়। পরে মধ্যরাতে কাহালগাঁও বাজারে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় এবং একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহনে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট চালানো হয়। ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং থেকে পাঁচ লাখ ও একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে দুই লাখ সাত হাজার টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া একটি মোটরসাইকেলও ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
বুধবার উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার জামায়াত-শিবিরের ৪৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
তবে ফুলবাড়িয়া উপজেলা জামায়াত এক বিজ্ঞপ্তিতে হামলা ও লুটপাটে দলের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তদন্তে দলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমার শর্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য কামরুল হাসান মিলন গণমাধ্যমকে, বিএনপির দুটি পক্ষ ও জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী এ ঘটনায় জড়িত বলে জানতে পেরেছেন তিনি। যারাই জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি মো. সাইফুল্লাহ সাইফ জানান, মামলার অনেক আসামি আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে