সংবিধানে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ ও মুক্তিযুদ্ধকে ‘সমান’ করার তীব্র বিরোধিতা বিএনপির
সংবিধানের প্রস্তাবনায় ২০২৪ সালের ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে’ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সমান গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছে বিএনপি।
রোববার (২৩ মার্চ) জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে সংস্কারের প্রস্তাব জমা দিয়েছে দলটি। স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বিএনপির তিন সদস্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আলী রিয়াজের কাছে দলের প্রস্তাবগুলো হস্তান্তর করেন।
এতে রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তন, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কমানো এবং জাতীয় সংবিধান পরিষদ গঠনসহ অন্য প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করা হয়েছে।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন এবং নারীদের সংরক্ষিত আসন বাড়ানোর প্রস্তাবে একমত হলেও এই পরিবর্তনগুলোর পদ্ধতিগত দিকগুলো নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতামত প্রকাশ করেছে বিএনপি।
সংবিধান, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার সম্পর্কিত লিখিত প্রস্তাব জমা দেয় দলটি।
পরে সাংবাদিকদের সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কমিশনের প্রস্তাবনায় সংবিধানের প্রস্তাবনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। প্রস্তাবনা সংবিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং কমিশনের এটিকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন বা সংশোধনের পরামর্শ মূলত এটি পুনর্লিখনের অনুরূপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ‘গণঅভ্যুত্থানের’ ঘটনাবলীকে একই প্রেক্ষাপটে তুলনার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে আপত্তি জানান বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, বিএনপি এটিকে অনুপযুক্ত বলে মনে করে এবং এ ধরনের বিষয়গুলোর হয় আলাদাভাবে সমাধান করা উচিত অথবা সংবিধানের তফসিল অংশে রাখা উচিত বলে পরামর্শ দেয়।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি পঞ্চদশ সংশোধনীর আগে যেমন প্রস্তাবনা বিদ্যমান ছিল, তেমন প্রস্তাবনাকেই সমর্থন এবং বর্তমান প্রস্তাবনাটিকে প্রত্যাখ্যান করে।
সংবিধানে রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে অনুশীলনের মাধ্যমে দেশের নাম গ্রহণ করেছে।
বিএনপি নেতা যুক্তি দেন, নাম পরিবর্তন করলে কোনো উল্লেখযোগ্য সুবিধা হবে না। তাই এই পরিবর্তনের দৃঢ় বিরোধিতা করে দলটি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে