বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত: মেজর হাফিজ
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত। বিএনপি নির্বাচনে গেলে আমি সেই নির্বাচনে অংশ নেব’। সম্প্রতি দেশের এক জাতিয় দৈনিকের সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
আগামী নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নতুন দল গঠন এবং নির্বাচন বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন , এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না। আমি রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখছি। এর বেশি কিছু এখন বলব না।
৭৯ বছর বয়সী হাফিজ উদ্দিন আহমদ দুই মাস আগে অসুস্থ হয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেও (সিএমএইচ) ভর্তি ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমি সিএমএইচে ছিলাম। এরপর একবার সিঙ্গাপুরে গিয়েছি চিকিৎসার জন্য। এখন শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। সে জন্য আবার চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাব। ভিসার জন্য আবেদন করেছি।
একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বাধীন ‘জেড’ ফোর্সে ছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য তিনি বীরবিক্রম খেতাব পান। সামরিক বাহিনী থেকে অবসরের পর তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়া সরকার গঠন করলে তিনি পানিসম্পদমন্ত্রী ছিলেন। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন তিনি। সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে কারাগারেও যেতে হয়েছে তাঁকে।
ঢাকায় গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আট হাজারের বেশি নেতাকর্মী পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন। মামলা ও গ্রেপ্তার অভিযানের মুখে বিএনপি দুই দফায় পাঁচ দিনের অবরোধ কর্মসূচি পালনের পর আজ বুধবার থেকে আবারও দু’দিনের অবরোধ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে। দলটি তাদের আন্দোলনের এই পর্যায়ে এবং নির্বাচন সামনে রেখে গত সোমবার তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ঢাকায় দলের এক সমাবেশে বলেছেন, অনেকেই লাইন ধরে আছেন তৃণমূলে (তৃণমূল বিএনপি) যোগ দেওয়ার জন্য। আর বিএনপির সাবেক মন্ত্রী বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মেজর হাফিজের নেতৃত্বে আরও একটি দল হতে যাচ্ছে। তারা শিগগিরই ঢাকায় কনভেনশন করবেন। সুতরাং বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও নেতাদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে পারবে না।
এ বিষয়ে বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, মেজর হাফিজ অনেক দিন ধরে দলে সক্রিয় নন। বিভিন্ন কারণে দলের হাইকমান্ডের ওপর তিনি রুষ্ট আছেন। চাওয়া-পাওয়ার সম্মিলন না ঘটায় এর আগেও দলের প্রতি নিজের রাগ-ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তাঁকে পুরোপুরি আস্থায় নিতে পারেননি বিগত দিনে। ওয়ান-ইলেভেনে বিতর্কিত ভূমিকার পরও তাঁকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
নেতারা জানান, ২০২০ সালেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে এক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় তাঁকেসহ আরও একজনকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় দলটি। সে সময়ও মেজর হাফিজের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি দল থেকে পদত্যাগ করবেন বলে গুঞ্জন ওঠে। তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতার হস্তক্ষেপের পর সংবাদ সম্মেলন করে মেজর হাফিজ সেই নোটিশের জবাব দিয়েছিলেন। অবশ্য বিএনপি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন বলে একটি গণমাধ্যমে সংবাদ সম্পর্কে জানতে চাইলে মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, এটা সত্য নয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে